আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ৪ জুলাই শনিবার বিকেলে শিশু একাডেমী দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের হলরুমে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাড. আতিকুর রহমান।
অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন
বাংলাদেশের ৫৪-৫৫ বছরের ইতিহাসে রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে, দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং যেকোনো সংকটে শ্রমিক শ্রেণী সবসময় সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার মূল চেতনা—"সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক সমতা"—শ্রমিকদের জীবনে আজও পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
একটি আদর্শ শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রামকে বেগবান করতে এবং এই দীর্ঘস্থায়ী বৈষম্য ভাঙতে কিছু মৌলিক জায়গায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনা জরুরি:
১. রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্তি
ট্রেড ইউনিয়নগুলোর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গসংগঠন হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া। আদর্শ ইউনিয়নকে হতে হবে শ্রমিক-কেন্দ্রিক, দল-কেন্দ্রিক নয়। যখন ইউনিয়ন কোনো দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শুধু শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কথা বলবে, তখন সরকার পরিবর্তন হলেও শ্রমিকের দরকষাকষির শক্তি কমবে না।
২. প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সমন্বয়
আমাদের দেশে পোশাক শিল্প বা বড় কিছু প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা কিছুটা সংগঠিত হলেও, বিশাল একটি অংশ (যেমন: দিনমজুর, রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক, গৃহশ্রমিক) সম্পূর্ণ অধিকারবঞ্চিত। একটি আদর্শ সংগ্রামের লক্ষ্য হওয়া উচিত এই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিশাল জনগোষ্ঠীকে ট্রেড ইউনিয়নের আওতায় এনে তাদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৩. জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ মজুরি
বছরের পর বছর ধরে নামমাত্র মজুরি বৃদ্ধি পেলেও দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের (Inflation) সাথে তা কখনোই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। আদর্শ ইউনিয়নের সংগ্রাম হওয়া উচিত এমন একটি স্বয়ংক্রিয় মজুরি কাঠামো (Automated Wage Indexation) তৈরি করা, যা বাজারের মূল্যস্ফীতির সাথে সাথে নিজে থেকেই সমন্বয় হবে।৪. শ্রম আইনের কঠোর বাস্তবায়ন
কাগজে-কলমে বাংলাদেশ শ্রম আইন থাকলেও এর প্রয়োগ অত্যন্ত দুর্বল। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ইলিশন (শ্রমিক ছাঁটাই) বন্ধ করা, এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকে এক সুতোয় গাঁথতে হবে।
"শ্রমিকের ভাগ্য পরিবর্তন কোনো সরকারের দয়ার দান নয়, এটি তাদের আইনি ও মানবিক অধিকার।"
আপনারা যে আদর্শ ট্রেড ইউনিয়ন গড়ার কাজ করছেন, তা এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এই সংগ্রামকে আরও সুসংগঠিত ও বেগবান করতে আপনাদের বর্তমান কৌশল বা মূল চ্যালেঞ্জগুলো কী কী, যা নিয়ে আপনারা এখন কাজ করছেন?
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি
মোঃ জাকিরুল ইসলাম সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ এনামুল হকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডঃ. জিয়াউল হক, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল সহকারী পরিচালক আবুল হাসেম বাদল, দিনাজপুর জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ, জেলা শাখার সাধারণ উপদেষ্টা সাইদুর ইসলাম সৈকত,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দিনাজপুর শহর শাখার সভাপতি মাসুদ রানা, জেলা শাখার সাবেক সভাপতি তৈয়ব আলী,শহর শাখার উপদেষ্টা সিরাজুস সালেহীন উপদেষ্টা, সদর শাখার উপদেষ্টা মেহরাব আলী, দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি রমজান আলী, সহ-সভাপতি রাশেদুন নবী, সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, দিনাজপুর জেলা শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক এস এম হাদিউজ্জামান, চিচিরবন্দর উপজেলা সভাপতি আফসার আলী, বিরামপুর উপজেলা সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, বিরল উপজেলা সভাপতি নাজমুল ইসলাম, বীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি হামিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শহর শাখার সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রিপন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: রুকুনুজ্জামান, বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: ০১৫৫৬৩০৫০২৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত