অনলাইন ডেস্ক :
ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সামনেই এক নারী যাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগকে ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা এবং ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—এটিএসআই খোকন ইসলাম (৩৫) এবং কনস্টেবল ফজলে রাব্বি (৩৪), গোলাম মোস্তফা (৩৬) ও আশিকুল রহমান (৩০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওই নারী যাত্রীকে সন্দেহের ভিত্তিতে ক্যান্টিনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেননি।
পরবর্তীতে ওই নারী ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে থাকা অবস্থায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ধর্ষণের অভিযোগের পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এত গুরুতর একটি ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
দায়িত্ব পালনে অবহেলা, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এবং অর্থ নেওয়ার অভিযোগের পর চার পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিককে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে বগুড়া আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধর্ষণ, দায়িত্বে অবহেলা ও অর্থ নেওয়ার অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: রুকুনুজ্জামান, বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: ০১৫৫৬৩০৫০২৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত