
বেরোবি প্রতিনিধি , মো: আল-আমিন
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল প্রস্তাবনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। বুধবার(৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ইউনিয়নের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামোর শিকার হয়ে আসছেন। ন্যায্য অধিকার থাকা সত্ত্বেও বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মচারী শরিফুল ইসলাম বাবু বলেন,“অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছে এবং কমিশনও গঠন করেছে। কিন্তু বর্তমানে জানানো হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন সম্ভব নয় এবং এটি পরবর্তী সরকারের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে। যদি বাস্তবায়নই সম্ভব না হয়, তাহলে কর্মচারীদের কেন এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল? দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আমাদের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হবে। আমরা সবাই এখন চরম হতাশার মধ্যে রয়েছি।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আরেক কর্মচারী বলেন,
“নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতেই আজকের এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ইউনিয়নের ব্যানারে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নেমেছি। বাংলাদেশ কর্মচারী ইউনিয়নের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৫ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। এ সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আগামী ৬ তারিখ সারাদেশের কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একত্রিত হবে। এরপরও দাবি বাস্তবায়ন না হলে যমুনা অভিমুখে কর্মসূচি দেওয়া হবে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আরও এক কর্মচারী বলেন,
“বর্তমানে আমরা যে বেতন পাচ্ছি, তা দিয়ে পরিবার চালানো অত্যন্ত কষ্টকর। আমাদের অধিকাংশের পরিবারে চার থেকে পাঁচজন সদস্য রয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতেই প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারবো এবং সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও খাদ্যের মতো মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে পারবো।”