
হিলি দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে বছরের পর বছর পড়ে আছে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের পণ্য।
এসব পণ্যের বেশির ভাগ মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জব্দ করেছে। আবার অনেক পণ্য বাড়তি শুল্কের কারণে আমদানিকারকরা খালাস নেননি। আইনি জটিলতায় গত দেড় দশকেও এসব পণ্য নিলাম না হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। দীর্ঘ বছর পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে পণ্যগুলো। একই সঙ্গে গুদাম দখল করে পড়ে থাকায় মাশুল আদায় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দ্রুতই পড়ে থাকা এসব পণ্য নিলামে তোলা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ইং সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ ইং সাল পর্যন্ত বন্দরের চারটি ওয়্যারহাউজ ও ওপেন ইয়ার্ড শেডে বিভিন্ন ধরনের পণ্য পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ টন ২৯০ কেজি থ্রি-পিস, ৪০০ কেজি মোটরসাইকেল পার্টস, ১১ টন আঠা, ১ টন ১১৪ কেজি ইয়ার্ন, ৭২ কেজি ডেঙ্গু কিট, ২ টন ৯৩০ কেজি আয়রন স্ক্র্যাপ, ১২১ টন চাল, ১৪ টন ২০১ কেজি পলিশিং স্টোন, সুপারি কাটার মেশিনসহ অন্যান্য পণ্য রয়েছে ৩১ টন ৬০০ কেজি। এছাড়া রয়েছে টাইলস ৩ টন ২৫০ কেজি, বিটলবন ৪৯ টন ৩৭১ কেজি, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ২ টন ৯০৮ কেজি, চায়না ক্লে ৩০ টন ১০০ কেজি, স্প্রিং ২৩ টন ৫৯৬ কেজি, পাট বীজ ১৩ টন এবং পোলট্রি হ্যাচারি প্রিমিক্স ৫০০ টন।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পণ্য আসার পর দেখা যায়, আমদানিকারক বলছেন পণ্য নেবেন, কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে আগে আনলোড করতে হবে। আনলোড করার পর আবার বাংলাদেশী গাড়িতে লোড দিতে হয়। কিন্তু গুদামে জায়গা না থাকায় পণ্য আনলোড করা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য আটকে থাকায় অল্প জায়গার মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে। ফলে অনেক গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলো নামানোর কোনো সক্ষমতা নেই।’
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আব্দুর রহিম বলেন, ‘আগের যে পণ্যগুলো গুদামে পড়ে আছে সেগুলো যদি নিলামের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়া যায়, তাহলে গুদামে জায়গা হবে। বর্তমানে যে পরিমাণ জায়গা আছে, সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা সম্ভব নয়। পণ্যগুলো দ্রুত নিলামে বিক্রি করলে গুদাম খালি হবে এবং নতুন পণ্য রাখার সুযোগ তৈরি হবে।’
হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জাবেদ হোসেন রাসেল বলেন, ‘বন্দরের ওয়্যারহাউজ ও ওপেন ইয়ার্ড শেডে দীর্ঘদিন ধরে অনেক পণ্য পড়ে আছে। এতে বন্দরের জায়গা দখল হয়ে রয়েছে, যা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আমদানীকৃত অনেক পণ্য গুদামে রাখার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার দুই-চার-পাঁচ বছর ধরে পড়ে থাকা অনেক পণ্যের মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এসব পণ্য দেশের কাজে লাগছে না, আমদানিকারকরাও ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে পুরো টাকাটাই অপচয় হচ্ছে।’
পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের গুদাম কর্মকর্তা শংকর নারায়ণ সাহা বলেন, ‘বন্দরের চারটি ওয়্যারহাউজ ও ওপেন ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে অনেক পণ্য পড়ে আছে। এ কারণে বন্দরে পণ্য সংরক্ষণের জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক আমদানিকারককে আমরা জায়গা দিতে পারি না। এ বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এসব পণ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং বন্দরেরও মাশুল আদায় বৃদ্ধি পাবে।’
রংপুর কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার সফিউর রহমান বলেন, ‘নিলাম ও ধ্বংসযোগ্য পণ্যসহ কমিশনারেটের অধীনে ১৫টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে কিছু আমাদের নিজস্ব এবং কিছু বিভিন্ন পোর্টের। যেমন পানামা পোর্টের গুদাম। এরই মধ্যে এ বিষয়ে একটি সভা হয়েছে এবং পণ্যের ইনভেন্টরি ও তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঈদের পরই নিলামযোগ্য পণ্য নিলাম এবং ধ্বংসযোগ্য পণ্য ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’