
পার্বতীপুর প্রতিনিধি:
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে। ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে এই ডিজেল পৌঁছানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ৩টা ২০ মিনিট থেকে পাইপলাইনে ডিজেল পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ১১৩ মেট্রিক টন হারে পাম্পিং করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার (১১ মার্চ) এই ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের সরবরাহ সম্পন্ন হবে।
বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, চলতি মার্চ মাসে এটি প্রথম চালান। এ মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি।
পার্বতীপুর রেলহেড ডিপো সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইনটি ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরাসরি পার্বতীপুর ডিপোতে সরবরাহ করা সম্ভব।
দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, পাইপলাইন চালুর পর প্রথম তিন বছর প্রতি বছর ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। পরবর্তী তিন বছরে তা বাড়িয়ে বছরে ৩ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে। আর এরপরের চার বছরে সরবরাহ বাড়িয়ে বছরে ৫ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিপো সূত্রে আরও জানা গেছে, পার্বতীপুরে অবস্থিত বিপিসির ডিপো থেকে প্রতিদিন রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে ডিপোতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতে পেট্রল পাম্পগুলোতে চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়মিতভাবে নতুন চালান দেশে পৌঁছাতে শুরু করলে তেলের সাময়িক সংকট কেটে যাবে। বর্তমান মজুত ও পাইপলাইনের মাধ্যমে আসা সরবরাহের সমন্বয়ে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।