
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি : ১৮ মাসের নীরবতা ভেঙে দিনাজপুরে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল এবং তার পরপরই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শহরজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের স্লোগান ও সেলফি তোলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা দলীয় কার্যালয়টিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে হঠাৎ জড়ো হন অন্তত ছয়-সাতজন নেতাকর্মী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা সেখানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ স্লোগান দেন। শুধু স্লোগানই নয়, তারা কার্যালয়ের সামনে সেলফি তোলেন এবং ভেতরে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচিতে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ খালেদ হাবিব সুমন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রহমতুল্লাহ রহমত, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাহ উদ্দিন দিলীপ এবং সদস্য রুহানা নিশাত বিথীসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ নেতাদের এই ঝটিকা উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। বিকেলে তারা মিছিল নিয়ে উক্ত কার্যালয়ে পৌঁছান এবং সেখানে অগ্নিসংযোগ করেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের অপরাধীরা প্রকাশ্য দিবালোকে স্লোগান দেওয়ার দুঃসাহস কোত্থেকে পায়? তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরনবী জানিয়েছেন, বর্তমানে কার্যালয়টির দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন: যেহেতু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ, তাই কারা স্লোগান দিয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাজপথে প্রকাশ্যে আসা এবং স্লোগান দেওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেমন তাদের সাহসিকতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চর্চা হচ্ছে, অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে আসা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।