
মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি:
দেশের বিভিন্ন সরকারি কাজে পাথরের চাহিদা না থাকার পরও উত্তোলন করায় অতিরিক্ত পাথর নিয়ে বিপাকে পড়েছে মধ্যপাড়া পাথর খনি কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের উঞ্চলের একমাত্রা মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে উত্তোলন করা পাথর ধারণক্ষমতার বেশি জমা পড়েছে। এতে খনিতেই উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে পাথরের স্তূপের উচ্চতা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে উৎপাদন।
পাথর বিক্রি কম হওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কম্পানি (এমজিএমসিএল)। খনির তিনতলা ভবন পর্যন্ত ছুঁইছুঁই করছে পাথরের মজুদ। বর্তমানে খনির ২৫টি ইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে প্রায় ৪২০ কোটি টাকার ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টন পাথর।
প্রকল্পে পাথর উত্তোলন বাড়লেও বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে প্রতিমাসেই মজুদের পরিমাণ বাড়ছে। এতে ব্যয় মেটাতে খনিটি পড়েছে দেনার মুখে।
দেশে বছরে পাথরের চাহিদা প্রায় দুই কোটি ১৬ লাখ টনেরও বেশি চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দুই হাজার ৯৫৫ কিলোমিটার রেলপথে প্রতিবছর এক কোটি (ঘনফুট) পাথর প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া নদীশাসন ও অন্যান্য সরকারি উন্নয়ন কাজে ব্যবহার হয় পাথর। এসব পাথরের সিংহভাগ আমদানি হয় ভারত, ভুটান, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।
খনিসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, চুক্তিবদ্ধ ৮০/১২০ বোল্ডার ও ৪০/৬০ আকারের পাথর বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড না নেওয়ায় আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে খনি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকট হয়ে উঠেছে। খনি বন্ধ হলে প্রতিদিনই বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে প্রতিষ্ঠানটি। এতে সরকারের লাখ লাখ রাজস্ব আয় কমবে।
মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ বলছে, মধ্যপাড়া খনির পাথরের মান ভালো হলেও আমদানির পাথরেই ঝোঁক বেশি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এতে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। অন্যদিকে ধারদেনা করে খনির ঠিকাদারের বিল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হচ্ছে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট কম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে খনির ইয়ার্ডে মজুদ পাথর ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টন। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৬০ মিমি আকারের ব্লাস্ট ৯ লাখ টন, ৮০/১২০ বোল্ডার তিন লাখ ৬৭ হাজার টন। বর্তমানে খনি থেকে ৬ আকারের পাথর উৎপাদিত হচ্ছে।
এমজিএমসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ডি এম জোবায়েদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীশাসন কাজে পাথর ক্রয় না করায় ইয়ার্ড পূর্ণ এবং বিদেশ থেকে নিয়ে আসা ডেটোনেটরের (বিস্ফোরক) ওপর রয়্যালটি না কমানোয় পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে খনির পাথর ব্যবহার নিশ্চিত করলে দেশের একমাত্র পাথরখনিটি প্রাণ ফিরে পাবে। দেশের ডলার সাশ্রয় হবে।
দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিটির উৎপাদন এক সময় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বে-সরকারি সংস্থা জিটিসি দায়িত্ব নেওয়ার পর খনি থেকে বিপুল পরিমান পাথর উত্তোন হচ্ছে এর আগে কোন কোম্পানি খনিটির উন্নয়নের মুখ দেতে পারে নি। এই কোম্পানিটি সরকারকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে দিচ্ছেন। কিন্তু উৎপাদিত পাথর সরকারি কাজে ব্যবহৃত হলে দেশ অর্থনৈতিক দিকে থেকে লাভবান হবে।