1. live@www.manabkotha.com : মানবকথা ডটকম : মানবকথা ডটকম
  2. info@www.manabkotha.com : মানবকথা ডটকম :
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পার্বতীপুরে বাড়ছে সুস্বাদু ও রসালো তালশাঁসের চাহিদা সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করার  ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন মাগুরায় অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ঈদযাত্রায় প্রস্তুত হচ্ছে ১২৭টি কোচ সৈয়দপুর রেল কারখানায় ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের পায়তারা বন্ধ এবং এস আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিকরা কোল ফেইস বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ পার্বতীপুর স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট শুভ উদ্বোধন দিনাজপুর হাবিপ্রবিতে সংঘর্ষ ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় ৩১ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ছাড়া সব উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে – খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন

দিনাজপুরে লোডশেডিংয়ের মহোৎসব: পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকোর ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ জনজীবন

মানবকথা ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি : তীব্র গরমের মধ্যে দিনাজপুরে লোডশেডিংয়ের মহোৎসব শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জেলাজুড়ে বিদ্যুতের এই ভয়াবহ বিড়ম্বনায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে দিন-রাত মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। একদিকে তীব্র তাপদাহ, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বিরল উপজেলার মহাজনপাড়া এলাকার ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোসলেম উদ্দিনের কণ্ঠে ঝরছিল একরাশ ক্ষোভ। তিনি বলেন, “শনিবার দুপুর ১২টায় বিদ্যুৎ গেছে, এসেছে আড়াইটায়। এরপর রাত ৮টায় যে গেল, তা আর আসার নাম নেই। ফিরেছে পরদিন রোববার বেলা সাড়ে ১১টায়। যদিও গত কয়েকদিন কিছু এলাকায় ঝড়বৃষ্টি হয়েছে, তবে স্থানীয়দের দাবি ঝড়বৃষ্টির দোহাই দেওয়া হলেও আসলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
শুধু গ্রাম নয়, শহরের বাসিন্দাদেরও একই দশা। ছোটগুড়গোলা এলাকার মলি রানী জানান, দিনের বেলা তিন-চারবার কারেন্ট যায়। বাড়িতে অসুস্থ বৃদ্ধ ও ছোট শিশু নিয়ে সীমাহীন ভোগান্তির কথা জানান তিনি। বৈদ্যুতিক চুলায় রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় গৃহিণীদের ক্ষোভ এখন চরমে।
ব্যবসায়িক খাতেও পড়েছে এর বিরূপ প্রভাব। দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক সহিদুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন বজায় রাখতে বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন খরচের ওপর।
বিদ্যুৎ অফিসগুলোর পক্ষ থেকে বরাবরের মতো দায়সারা বক্তব্য পাওয়া গেছে। দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সূত্রে জানা যায়: চাহিদা: ১০০ থেকে ১২২ মেগাওয়াট। ঘাটতি: ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট।
সমিতির উপ-ব্যবস্থাপক (কারিগরি) সীমা রানী কুন্ডু সরবরাহ হ্রাসের কথা স্বীকার করলেও লোডশেডিংয়ের সময়কে সীমিত বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীবের দাবি, তাদের চাহিদার তুলনায় বড় কোনো ঘাটতি নেই। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ১৭টি ফিডারের মাধ্যমে সরবরাহ চললেও শহর ও গ্রামে দিন-রাত সমানে চলছে লোডশেডিং।
দিনাজপুর সদর, বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলার অন্তত ১৫ জন বাসিন্দা এবং অটোরাইস মিল মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লোডশেডিংয়ের কারণে মিলের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটায় কৃষকরাও ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী মানুষের প্রশ্ন সবকিছুতে ‘উন্নয়ন’-এর জোয়ার চললেও সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা এই বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান কবে হবে? নাকি গরমে ধুঁকে ধুঁকেই কাটবে সাধারণ মানুষের দিনকাল?

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট