
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুর শহরের পাহাড়পুর মৌজায় আদালতের স্থিতাবস্থা এবং পৌরসভার একাধিক নির্দেশনা অমান্য করে নকশা বহির্ভূতভাবে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো: আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, পাহাড়পুর নিবাসী মো: আফজাল হোসেন দিনাজপুর পৌরসভা থেকে একটি ছয় তলা ভবনের নকশা অনুমোদন করেন। তবে নির্মাণ কাজ শুরু হলে পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা শাহরিয়ার শহীদ মাহবুব হিরু অভিযোগ করেন যে, ভবনটি অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে তৈরি করা হচ্ছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন মেয়র (বর্তমানে সংসদ সদস্য) সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম তদন্ত সাপেক্ষে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র তৈয়ব আলী দুলাল এবং প্রশাসক নূর এ আলম সিদ্দিকীও কাজ বন্ধের আদেশ দেন এবং অবৈধভাবে নির্মিত তিনটি পিলার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। তবে অভিযুক্ত আফজাল হোসেন এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
নকশা বহির্ভূত নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে মো: আফজাল হোসেন নিজেই দিনাজপুর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে শাহরিয়ার শহীদ মাহবুব হিরুসহ অন্যদের বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ১২৬/২৫ এবং ৫৯২/২৬)। জবাবে বিবাদী পক্ষও পাল্টা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানায়।
আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিশন এবং বিজ্ঞ বিচারক মো: ইসরাফিল আলম সরেজমিনে জমি পরিমাপ করে দেখতে পান যে: আফজাল হোসেনের দলিল অনুযায়ী জমির পরিমাণ ০৬ শতক। কিন্তু তিনি ০৬.২৭ শতক জমির ওপর নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। এর বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপিল (মিস আপিল নং ৭৪/২৫) করা হলেও অতিরিক্ত জেলা জজ ৬ষ্ঠ আদালতের বিচারক রুবিনা পারভিন পূর্বের আদেশ বহাল রাখেন।
অভিযোগ উঠেছে, আদালতের আপিল আদেশের পরও গত ৩১ মার্চ ২০২৬ থেকে পুনরায় ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন মো: আফজাল হোসেন এবং বর্তমানে ভবনের দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী তুলসী চন্দ্র রায় বলেন-আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।