বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পার্বতীপুরে রংপুরের হোটেল শ্রমিক শাওন হত্যার প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানববন্ধন মাগুরার শ্রীপুরে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজনে পল্লী প্রাণি চিকিৎসকদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত খুলনার বিভাগীয় সমাবেশ, রুপ নিয়েছিলো জনসমুদ্রে! ধামইরহাটে পৃথক ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার মাগুরায় স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়াতে মাগুরা ডায়াবেটিক হাসপাতালে সিসি ক্যামেরার উদ্বোধন পার্বতীপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন মাগুরায় খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত পার্বতীপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের তারাগঞ্জে সরকারি আবাসিক ভবনে ১০ বছর ধরে অবৈধ ভাবে বসবাস করছেন আওয়ামী লীগ নেতা

ঘোড়াঘাটে পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় জুয়ার মহোৎসব

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ৭৪ বার পড়া হয়েছে

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামের করতোয়া নদীর পাড় এখন আর কেবল একটি নদীপথ নয়, বরং উত্তরবঙ্গের অপরাধ জগতের এক অঘোষিত ‘জমজমাট জুয়ার আসর’। মাসের পর মাস এখানে কোটি কোটি টাকার জুয়া চললেও রহস্যজনক কারণে নীরব পুলিশ প্রশাসন। মাঝে মাঝে পুলিশের ‘আইওয়াশ’ অভিযানে চুনোপুঁটিরা ধরা পড়লেও অদৃশ্য সুতার টানে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে জুয়া সাম্রাজ্যের মূল গডফাদাররা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—কার মদদে এই ওপেন চ্যালেঞ্জ?

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুলানন্দপুর গ্রামের দুর্গম নদী তীরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। প্রতিদিন দুপুর গড়াতেই এখানে বসছে জুয়ার আসর। দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও বগুড়াসহ পার্শ্ববর্তী ৫-৬টি জেলা থেকে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের নিয়ে হাজির হচ্ছে পেশাদার জুয়াড়িরা। দুর্গম এলাকা হওয়ায় দূর থেকেই প্রশাসনের গতিবিধি নজরদারি করতে পারে সিন্ডিকেটের নিয়োগ করা ‘লাইনম্যান’রা। ফলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পগারপার হয়ে যায় মূল হোতারা।

মাঝে মধ্যে পুলিশ প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজনকে আটক করে বাহবা নিলেও কয়েক দিন যেতে না যেতেই ফের শুরু হয় আসর। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের এই অভিযানগুলো কেবলই ‘রুটিন মাফিক’। আসরের প্রকৃত আয়োজক বা মাস্টারমাইন্ডদের কেন স্পর্শ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি প্রশাসনের কোনো গোপন আশকারা বা মাসোহারার বিনিময়ে এই অপরাধ সাম্রাজ্য টিকে আছে?

এই জুয়ার আড্ডা থেকে নদীর তীরে বসছে নেশার আসরও। এতে যেমন ধ্বংস হচ্ছে উপজেলার তরুণ প্রজন্ম, তেমনি এলাকায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি ও ছিনতাই। প্রতিবাদ করলে উল্টো মামলা বা হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে সাধারণ গ্রামবাসী ও সাংবাদিকদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “জুয়াড়িরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বীরদর্পে গ্রামে ঢোকে। পুলিশ মাঝেমধ্যে আসে, নাটকের মতো কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়, কিন্তু মহাজনরা সব সময় সেফ থাকে।”

এ বিষয়ে থানা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন কুলানন্দপুরবাসী দেখছে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews