শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠানোর অভিযোগে, পরীক্ষার্থীর কারাদণ্ড এনসিপির দিনাজপুর জেলা শাখার ১১ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন পার্বতীপুরে ১৫০ পূজামণ্ডপে ৯৮৪ আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন উপজেলা বিএনপির শীর্ষ দুই পদে প্রধান শিক্ষক বল্লেন চাকরি ছেড়ে দেবো ব্যারিস্টার সালেহী এমপির উদ্যোগে উলিপুরের প্রতিটি মন্দির পাচ্ছে টিউবয়েল কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ১৪৬ বোতল বিদেশি মদসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ পার্বতীপুরে রেল পরিদর্শন মোটর ট্রলি ভেঙে ৫ জন আহত, পিডব্লিউআই গুরুতর জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত সভায় ব্যারিস্টার সালেহী এমপি সেতাবগঞ্জ স্টেশনের মূল গেট বন্ধ, যাত্রীদের ভোগান্তি রাজারহাটে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার, চলছে মোটরসাইকেল পেট্রোলিং

ঘোড়াঘাটে পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় জুয়ার মহোৎসব

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামের করতোয়া নদীর পাড় এখন আর কেবল একটি নদীপথ নয়, বরং উত্তরবঙ্গের অপরাধ জগতের এক অঘোষিত ‘জমজমাট জুয়ার আসর’। মাসের পর মাস এখানে কোটি কোটি টাকার জুয়া চললেও রহস্যজনক কারণে নীরব পুলিশ প্রশাসন। মাঝে মাঝে পুলিশের ‘আইওয়াশ’ অভিযানে চুনোপুঁটিরা ধরা পড়লেও অদৃশ্য সুতার টানে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে জুয়া সাম্রাজ্যের মূল গডফাদাররা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—কার মদদে এই ওপেন চ্যালেঞ্জ?

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুলানন্দপুর গ্রামের দুর্গম নদী তীরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। প্রতিদিন দুপুর গড়াতেই এখানে বসছে জুয়ার আসর। দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও বগুড়াসহ পার্শ্ববর্তী ৫-৬টি জেলা থেকে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের নিয়ে হাজির হচ্ছে পেশাদার জুয়াড়িরা। দুর্গম এলাকা হওয়ায় দূর থেকেই প্রশাসনের গতিবিধি নজরদারি করতে পারে সিন্ডিকেটের নিয়োগ করা ‘লাইনম্যান’রা। ফলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পগারপার হয়ে যায় মূল হোতারা।

মাঝে মধ্যে পুলিশ প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজনকে আটক করে বাহবা নিলেও কয়েক দিন যেতে না যেতেই ফের শুরু হয় আসর। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের এই অভিযানগুলো কেবলই ‘রুটিন মাফিক’। আসরের প্রকৃত আয়োজক বা মাস্টারমাইন্ডদের কেন স্পর্শ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি প্রশাসনের কোনো গোপন আশকারা বা মাসোহারার বিনিময়ে এই অপরাধ সাম্রাজ্য টিকে আছে?

এই জুয়ার আড্ডা থেকে নদীর তীরে বসছে নেশার আসরও। এতে যেমন ধ্বংস হচ্ছে উপজেলার তরুণ প্রজন্ম, তেমনি এলাকায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি ও ছিনতাই। প্রতিবাদ করলে উল্টো মামলা বা হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে সাধারণ গ্রামবাসী ও সাংবাদিকদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “জুয়াড়িরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বীরদর্পে গ্রামে ঢোকে। পুলিশ মাঝেমধ্যে আসে, নাটকের মতো কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়, কিন্তু মহাজনরা সব সময় সেফ থাকে।”

এ বিষয়ে থানা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন কুলানন্দপুরবাসী দেখছে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews