
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের এক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের শুরুতেই জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। তিনি ঘোষণা করেন যে, তার দল ক্ষমতায় আসলে দেশে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং অন্য কাউকেও দুর্নীতি করতে দেব না। জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে যারা বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ তৈরি করেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
দিনাজপুরকে দেশের প্রধান খাদ্য জোগানদাতা অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় উন্নয়নের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: দিনাজপুরে আলু ও লিচুর জন্য বিশেষায়িত হিমাগার ও সংরক্ষণাগার স্থাপন। দিনাজপুরকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা। প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মায়েদের জন্য ঘরে ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। বিচারব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা এমন এক ব্যবস্থা করব যেখানে টাকা দিয়ে বিচার কেনা যাবে না। এ সময় তিনি, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান এবং আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানান।
নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা থেকে প্রথমে পঞ্চগড়ে যান। সেখানে জনসভা শেষ করে তিনি দিনাজপুরের এই সমাবেশে যোগ দেন।
দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুরের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হকের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। এছাড়া সমাবেশে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের স্থানীয় বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন, যার মধ্যে ছিলেন ডা. আব্দুল আহাদ (দিনাজপুর-৫), মতিউর রহমান (দিনাজপুর-১), অধ্যক্ষ আফজালুল আনাম (দিনাজপুর-২), মাইনুল আলম (দিনাজপুর-৩), আফতাব উদ্দীন মোল্লা (দিনাজপুর-৪) এবং আনোয়ারুল ইসলাম (দিনাজপুর-৬)।
সমাবেশে জেলা ও উপজেলার ১০ দলীয় জোটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।