সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পার্বতীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহফিজুল ইসলাম রিপন ও সাধারন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন instant paypal withdrawal casino uk fast payout guide 2026 all slots casino paypal Guide Fast Deposits & Withdrawals পার্বতীপুর প্রেসক্লাবে ভোট উৎসব কাল, ১১ পদের বিপরীতে লড়ছেন ২৮ প্রার্থী শেখ হাসিনার ফাঁসি চাইলেন শহীদ নূর আলমের স্ত্রী খাদিজা পৌর প্রশাসকের সঙ্গে সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপির জুলাই পথসভসায় = নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আনসার ভিডিপি সদস্য ওসমান আলীর ৫৬তম স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত Pay by Mobile Casinos Instant Withdrawal Fast & Safe পার্বতীপুরের ৬ সাংবাদিকের জামিন, শুনানিকালে বাদীকে খুঁজছিলেন বিচারক

কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি সচেতন নাগরিকদের

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম থেকে মোস্তাফিজুর রহমান :

কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলা বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জেলার সামাজিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে মেলা আয়োজনের অনুমোদন প্রক্রিয়া, আয়োজক নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অনৈতিকভাবে আর্থিক লেনদেনের বিষয়াদি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবুর স্বাক্ষরিত এক আবেদনে এ দাবি জানানো হয়। আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ ও পিছিয়ে থাকা জেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবছর বন্যা, নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সঙ্গে লড়াই করে জেলার মানুষ জীবনযাপন করে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বর্ষণ ও নদীভাঙনে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের ফসলের অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

এ অবস্থায় বাণিজ্য মেলার আয়োজনকে সময়োপযোগী নয় বলে উল্লেখ করে আবেদনকারীরা বলেন, জেলার মানুষের প্রধান চাহিদা হচ্ছে নদীভাঙন প্রতিরোধ, কৃষি পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা নিশ্চিত করা। এমন বাস্তবতায় মেলা আয়োজন জনমনে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, অতীত অভিজ্ঞতায় এ ধরনের মেলায় স্থানীয় অর্থনীতি বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পান না। বরং কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পায় বলে সচেতন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে। পাশাপাশি মেলার সময় মাদক, জুয়া, লটারি, কিশোর অপরাধ, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিস্তার ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রস্তাবিত বাণিজ্য মেলার অনুমোদন পুনর্বিবেচনা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং জেলার প্রকৃত সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, কুড়িগ্রামের মানুষ বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এই সময়ে মেলার চেয়ে মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

মেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আহ্বায়ক এবং বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজকে তার মুঠোফোনে কল দিলে ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেলার মূল উদ্যোক্তা রংপুরের অধিবাসী কাউনিয়ার বাসিন্দা মোঃ আঙ্গুর এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন মেলার সকল বিষয়ে জানতে হলে আয়োজক কমিটির সাথে অর্থাৎ কুড়িগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতির সাথে কথা বলতে হবে। এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলবো না।

মেলার সার্বিক বিষয়ে জানতে- কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এর সাথে কথা বলার জন্য মোবাইলে কল দিলে তিনিও রিসিভ না করায়, তার কোন বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

এখানে উল্লেখ্য যে, কুড়িগ্রাম সদরের ধরলা ব্রীজ পূর্ব পারে অবস্থিত প্রস্তাবিত পার্কটিতে বানিজ্য মেলার আয়োজন বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসক, কুড়িগ্রাম বরাবর আবেদন করেছেন ফজলুল করিম জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।

গত ৪ জুন আবেদন করেন অত্র মাদরাসা ও ইসলামি আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি শাহজাহান আলী।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ব্যবসা-বানিজ্য উন্নয়নের নামে এভাবে আয়োজিত বানিজ্য মেলায় প্রকৃত শিল্প ও ব্যবসার চেয়ে সার্কাস, লটারী, অশালীন বিনোদন ও বিভিন্ন প্রকার অনৈতিক অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডই বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে বলে এলাকাবাসীর ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমাদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো উল্লিখিত পার্কের বিপরীতে পূর্ব পার্শ্বে মহাসড়ক সংলগ্ন ফজলুল করিম জামিয়া ইসলামিয়া নামে একটি কওমি মাদরাসার অবস্থান। মাদরাসায় প্রায় চার শত আবাসিক ছাত্র অধ্যায়নরত। স্থানীয় এলাকাবাসী ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা এ মেলা মাসের অধিক চলতে থাকলে মাদকের বিস্তার, জুয়া, ছিনতাই, চুরি, কিশোর অপরাধসহ অনান্য অসামাজিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাবে। এতে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও পরিবেশের চরম বিঘ্ন ঘটবে।

তাই মাদরাসাটির ভাবমূর্তি বজায় রাখতে ও কোলাহল মুক্ত পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা সাবলীল রাখার স্বার্থে প্রস্তাবিত বানিজ্য মেলার অনুমতি অবিলম্বে বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা হলো সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান পাট শপিং মল বন্ধ রাখার সেখানে মেলা কিভাবে অনুমতি পেতে পারে আর সেটা গভীর রাত পর্যন্ত কিভাবে চলবে সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন- ধরলা পাড়ের সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews