সৈয়দপুর প্রতিনিধি: নিম্নতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, আট ঘণ্টা কর্মদিবস, অতিরিক্ত কাজের দ্বিগুণ মজুরি এবং শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে চলমান আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৈয়দপুর উপজেলা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ৭টায় সৈয়দপুর উপজেলা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে আয়োজিত কর্মীসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ খেজুর মিয়া। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিক নেতা জয়নাল আবেদীন।
কর্মীসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান খান।
বক্তারা বলেন, ২০২৫ সালের ৫ মে হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরির গেজেট ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে তা কার্যকর না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত কাজের ন্যায্য মজুরিসহ শ্রম আইনে স্বীকৃত অধিকার বাস্তবায়নেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও নিম্নতম মজুরির গেজেট কার্যকরে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর তদারকিতে ঘাটতি রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষার কারণে শ্রমিকেরা তাঁদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান শ্রমিক নেতারা।
সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুমন আলী, প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান, শ্রমিক নেতা নেহারুল ইসলাম, শংকর দা, রেজাউল করিম, মো. আজাদ, মো. ইমরান হোসেন ও নিতাই চন্দ্রসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কর্মীসভায় ন্যায্য মজুরি, শ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাবেক ও বর্তমান নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে নেতৃবৃন্দের বৈঠকের মাধ্যমে সমাবেশ আয়োজন এবং গেজেট বাস্তবায়নের চলমান আন্দোলন জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।