
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি ;
চাল-লিচুতে ভরপুর, জেলা মোদের দিনাজপুর। সে কথা মাথায় রেখেই দিনাজপুরের প্রবেশমুখে গড়ে তোলা হয়েছে নান্দনিক লিচু চত্বর। ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু লিচুকে ব্র্যান্ডিং করা, নগরীর নান্দনিকতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ লিচু চত্বর নির্মাণ করা হয়েছে। রাতেও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে এ চত্বর। কেউ সেলফি বা ছবি তুলছেন। কেউ গাড়ি থামিয়ে এক নজর দেখে যাচ্ছেন। ৩ জানুয়ারি দিনাজপুর সরকারি কলেজ মোড়ে নির্মাণ শেষে লিচু চত্বর-এর উদ্বোধন করা হয়। এটি উদ্বোধন করেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, এনডিসি, মো. শহিদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন মো. রিয়াজ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দিনাজপুর ও দিনাজপুর পৌরসভা পৌর প্রশাসক। তার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এটি বাস্তব রূপ পেয়েছে। নগর উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও জনবান্ধব উদ্যোগে তার ভূমিকা দিনাজপুরবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এই লিচু চত্বর ভবিষ্যতে পর্যটন, সংস্কৃতি ও নগর পরিচিতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠবে, এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, দেশে দিনাজপুরে প্রথম লিচু চাষ শুরু হয়। তবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সন জানা যায়নি। জনশ্রুতি রয়েছে ব্রিটিশ আমলে কোনো এক সময় সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাশিমপুর গ্রামের আবদুল হক ভারতের বোম্বাই থেকে বেদানা লিচুর চারা নিয়ে এসে রোপণ করেন। তখন থেকে দিনাজপুরে লিচু চাষ শুরু হয়। পরে বোম্বাই, মাদ্রাজি, হারিয়া বেদানা, কাঁঠালি, চায়না-থ্রি, গোলাপিসহ বিভিন্ন জাতের লিচুর চাষ শুরু হয় এখানে। দিনাজপুরের লিচু দেশবিদেশে কদর অর্জন করলেও লিচু নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা বা কাজ হয়নি। অথচ এ জেলায় লিচু চাষে রয়েছে ১৫০ বছরের ইতিহাস। দিনাজপুরের লিচুর কদর আলাদা। স্থানীয়রা দিনাজপুরের লিচুকে প্রাকৃতিক রসগোল্লা হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। আবদুল রাকিব, সবুর চৌধুরী, ফারুক হোসেনসহ দর্শনার্থীরা জানান, দেশের সেরা ও স্বাদের লিচু দিনাজপুরে হয়। এই লিচু শুধু দিনাজপুর নয় বিদেশেও যাচ্ছে। এখনকার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। এই নান্দনিক লিচু চত্বর দিনাজপুরকে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করছে। নগরীর নান্দনিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অটোরিকশাচালক জানান, এ স্থানটি দিনাজপুর সরকারি কলেজ মোড় নামে পরিচিত। কিন্তু লিচু চত্বরটি নির্মাণের পর এখন এলাকাটি লিচু চত্বর নামে পরিচিতি পেয়েছে। দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এরই মধ্যে দিনাজপুরের লিচু জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু লিচুকে ব্র্যান্ডিং করা, নগরীর নান্দনিকতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই লিচু চত্বর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।