
মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ শত কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে| অনুকূল আবহাওয়া, ব্যাপক ফলন এবং দেশব্যাপী দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কৃষক, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ বিরাজ করছে|
জেলার বিভিন্ন লিচুবাগানে ইতোমধ্যে গাছে গাছে ঝুলছে সু¯^াদু ও রসালো লিচু, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা|
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ী দিনাজপুর এর উপ-পরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন জানান, দিনাজপুরের সদর, বিরল, চিরিরবন্দর, খানসামা, বীরগঞ্জ, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, কাহারোল, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, বোচাগঞ্জ, হাকিমপুর ও বিরামপুর উপজেলাসহ জেলার সব উপজেলাতেই কমবেশি লিচুর আবাদ হয়েছে| এ বছর প্রায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে| আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে| জেলার জনপ্রিয় বেদানা, বো¤^াই, চায়না-থ্রি ও মাদ্রাজি জাতের লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে| রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে বাগান বুকিং যারা দিয়েছিলেন তারা এখন বাগান থেকে লিচু ভাঙ্গা শুরু করেছে| এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় লিচু সরবরাহ শুরু করে দিয়েছি| অনেক বাগান আগাম বিক্রিও হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা| লিচুকে কেন্দ্র করে মৌসুমি শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, প্যাকেজিং কর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়|
এছাড়া লিচুর মুকুলকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌচাষিরাও মধু সংগ্রহ করছেন, যা অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে| কৃষি বিভাগের মতে, লিচু ও মধু মিলিয়ে কয়েক লাখ মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে|
কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও বাজারমূল্য সন্তোষজনক থাকলে তারা লাভবান হবেন| তবে তারা বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন| অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর লিচুর উৎপাদন ও বাজারমূল্য উভয়ই সন্তোষজনক থাকবে এবং জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে| চলতি বছর দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় প্রায় ১২ কোটি লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে|