
কুড়িগ্রাম থেকে মোস্তাফিজুর রহমান : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে অতি গোপনে নবসৃষ্টপদের অফিস সহায়ক পদে নুরুন্নবী নামের এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুপার খালেকুজ্জামান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে ওই সুপার এর আগেও অতি গোপনে নিয়োগ দিয়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবক সদস্যদের একাংশের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিয়োগে জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া রেজুলেশন তৈরির করেছেন মাদ্রাসা সুপার ও সভাপতি। এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাদ্রাসার সভাপতি আনোয়ার হোসেনের দাবি, নিয়ম মেনেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী ও সভাপতি আনোয়ার হোসেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে অতি গোপনে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এ জন্য অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়া নুরুন্নবীর বাবা আব্দুল জলিলের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান, ৬ অক্টোবর নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হলে মাদ্রাসায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওইদিন সুপারিনটেনডেন্টকে মাদ্রাসার কার্যালয়ে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সুপার খালেকুজ্জামান আর মাদ্রাসায় নিয়মিত আসছেন না। তাকে বাড়িতেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তবে তার মোবাইলেও যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ৮ অক্টোবর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবক সদস্যদের একাংশ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগের জন্য তৈরি করা রেজুলেশনে তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও তিনজন অভিভাবক সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ ছাড়া সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী যোগদানের পর থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে আরও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
নায়কেরহাট দারুসসুন্নাত দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসা কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৯৭২ সাল থেকে ভালোভাবে চলে আসলেও ইদানিং তার সুনাম নষ্টের উপক্রম হয়েছে বলে দাবী এলাকার সচেতন মহল ও শিক্ষার্থী অভিভাবকদের। মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদসহ কয়েকজন বলেন, কোনো নিয়মনীতি না মেনে এবং আমাদের স্বাক্ষর জাল করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় মাদ্রাসায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হলে, তার দায় দায়িত্ব সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিতে হবে।