
পার্বতীপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় ভুট্টা চাষে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। বিশেষ করে সুইটকর্ন (Sweet Corn) বা মিষ্টি ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিকাশ লাভ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ধান ও গমের পাশাপাশি এখন কৃষকেরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। স্বল্প সময়ে কম খরচে অধিক লাভের সুযোগ থাকায় এ অঞ্চলে ভুট্টা চাষের পরিধি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে এ ফসল নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
স্পেন বাংলাদেশ এগ্রো লিমিটেডের সহযোগিতায় উপজেলায় সুইটকর্ন চাষে নতুন গতি এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের পাশাপাশি আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক (Contract Farming) চাষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকরা আগাম মূল্য ও বিক্রির নিশ্চয়তা পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য নিরাপদ ও লাভজনক সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
এ মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৫ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১২৭ হেক্টর জমিতে সুইটকর্ন চাষ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এবারের ফলনকে বাম্পার হিসেবে উল্লেখ করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ ভুট্টাক্ষেত। বর্তমানে কৃষকরা জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের বড় হরিপুর সাহাপাড়া গ্রামের ভুট্টা চাষি মো. আ. মতিন জানান, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো সার ও সেচ এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে এ বছর ফলন আশানুরূপের চেয়েও বেশি হবে। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে ভুট্টা চাষের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
একই ইউনিয়নের মন্মদপুর এলাকার কৃষক মো. আ. রহমান বলেন, তিনি আগে ২ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করলেও এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন।
ফিল্ড সুপারভাইজার শাহাবুদ্দিন জানান, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে কৃষকদের ভালো ফলন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাজিব হুসাইন বলেন, কম খরচে অধিক লাভের আশায় কৃষকরা বোরো ধানের জমিতে আগাম ও উচ্চ ফলনশীল দানাদার ভুট্টা চাষ করছেন। রোগবালাই দমনে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে পার্বতীপুরে ভুট্টা চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। সুইটকর্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।