1. live@www.manabkotha.com : মানবকথা ডটকম : মানবকথা ডটকম
  2. info@www.manabkotha.com : মানবকথা ডটকম :
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অভিযোগ করে প্রতিকার পায়নি কড়াইপড়া গ্রামবাসী পার্বতীপুরে শিক্ষা বিষয়ক গ্লোবাল অ্যাকশন সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পার্বতীপুরে দৈনিক দেশ রুপান্তরের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন ধামইরহাটে জমিতে রাসায়নিক স্প্রে করে ফসল নষ্টের অভিযোগ রংপুরের তারাগঞ্জে অনুমোদনহীন কার্যক্রমে ধরা খেল ফুয়েল টেক জরিমানা ও বন্ধ ঘোষণা দিনাজপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ৩০ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ সৈয়দপুরে অসহায় নারীদের মাঝে ১২৬টি সেলাইমেশিন বিতরণ পার্বতীপুরে কৃষি সমৃদ্ধি লক্ষ্যে ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত বিরামপুর রেল স্টেশন পরিদর্শন করলেন রেল ডিজি বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চালুর ১৫ ঘণ্টা পর আবারও উৎপাদন বন্ধ

উত্তরবঙ্গের কল্যাণে যে ফেরি এসেছিল, আজ তা নীরব বালুচরের বন্দী

চিলমারী প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

চিলমারী প্রতিনিধি

বহু আন্দোলন, বহু দাবি-দাওয়ার পর ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মপুত্রের বুকে চালু হয়েছিল রৌমারী-চিলমারী ফেরি সার্ভিস। সেদিন নদীর দুই পারে ছিল উৎসবের আমেজ। যেন দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান। মানুষের চোখে ছিল স্বস্তির ঝিলিক, ব্যবসায়ীদের মনে নতুন সম্ভাবনার আলো।

কিন্তু সেই আলো আজ ম্লান। নাব্যতা সংকটের অজুহাতে বারবার বন্ধ হয়ে অবশেষে গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে পুরোপুরি থেমে গেছে ফেরি চলাচল। আড়াই বছরও পেরোয়নি, অথচ ফেরি সার্ভিস যেন আবারও অনিশ্চয়তার বালুচরে আটকে গেছে।

জানা গেছে, ফেরি সচল থাকলে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২০ জেলার মানুষের ঢাকা যাতায়াতের দূরত্ব কমতো ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। সময় বাঁচত, জ্বালানি সাশ্রয় হতো, কমতো ভাড়া। এখন সেই মানুষগুলোকেই ঘুরপথে দীর্ঘ ভ্রমণ করতে হচ্ছে-বাড়তি সময়, বাড়তি খরচ আর বাড়তি ক্লান্তি নিয়ে।

ভূরুঙ্গামারীর ট্রাকচালক ফরিদ মিয়া বলেন,“ফেরি চালু থাকলে অনেক সুবিধা হতো। এখন ঘুরে যেতে হয়, খরচ বাড়ে, সময়ও বেশি লাগে।

আরেক চালক হামিদুল ইসলাম বলেন,“চিলমারী-রৌমারী রুটে যখন ফেরি চলত, দুই প্রান্তে ট্রাকের লম্বা সারি থাকত। আমরা সাশ্রয়ে পারাপার হতাম। এখন শুধু বিড়ম্বনা।

এদিকে এ রুটে নিয়োজিত দুটি ফেরি ‘কদম’ ও ‘কুঞ্জলতা’- নদের ড্রেজিং না হওয়ায় বালুচরে আটকে রয়েছে। একসময় যে ফেরি ছিল মানুষের আশার বাহন, আজ তা নিঃশব্দে ক্ষয়ে যাচ্ছে রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকলে সরকারের কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নাব্যতা কমে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। কিন্তু এবার আগাম পলি জমে চ্যানেল আরও সংকুচিত হয়েছে। নদীর গতিপথ বদলে গিয়ে জেগে উঠেছে নতুন চর-আর থেমে গেছে মানুষের চলাচল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০৪ দিনের মধ্যে ৯৭ দিন ফেরি চলেছিল।

২০২৪ সালে ২৪১ দিন সচল ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১৮ দিনের মধ্যে মাত্র ৬৮ দিন চলেছে ফেরি।

এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়—এগুলো মানুষের ভোগান্তির প্রতিচ্ছবি।

ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, অনিশ্চিত যাত্রা ফেরি বন্ধ থাকায় যাত্রীদের নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া, বাড়তি ঝুঁকি—সব মিলিয়ে অনিশ্চিত যাত্রা। কখনো অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা পারাপারের সময় তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও মাঝিদের মধ্যে প্রায়ই দেখা দিচ্ছে উত্তেজনা।

চিলমারী রমনা ঘাটের হোটেল মালিক রমজান আলী বলেন, ফেরি চললে ব্যবসা ভালো হতো। এখন মানুষ আসে না আগের মতো। ব্যবসাও নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সমির পাল জানান, প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ড্রেজিং চলছে। তবে এপ্রিল বা মে মাসের আগে ফেরি চালু করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট