মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

পহেলা বৈশাখ মঙ্গল শোভাযাত্রার নেপথ্যে ইতিহাস

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার নেপথ্যে

ইবনে শাহ

বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ও তাদের সন্তানরা আজ যাচ্ছে কোথায়। আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের দোসর বিপথগামী কিছু সুশীল নামধারী, স্বধর্ম বিদ্বেষী কিছু নারী-পুরুষের প্রত্যক্ষ মদদে বাংলার মুসলিম সংস্কৃতি, ইসলামী আদর্শ কিংবা মুসলিম শাসনের সোনালী দিনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে এদেশ থেকে মুছে ফেলার জন্য আমাদের এই দেশে প্রতিনিয়ত বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে।

দুঃখ হয় আমাদের সন্তানেরা, ছোট ভাইয়েরা আমাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস ঐতিহ্য লালন পালন না করে তারা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকারে পরিণত হচ্ছে। মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে যে সকল প্রাণীর মুখোশ , ছবি বা মূর্তি বহন করা হচ্ছে সে সকল প্রাণী সাধারণ কোন প্রাণী নয়। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন তারা কিন্তু ছাগল ভেড়া উট দুম্বা কিংবা আমাদের ঘরে পালিত পায়রা বা কবুতর, মোরগ-মুরগির ছবি বা মূর্তি বহন করে না। এসব হালাল প্রাণীর ছবি মুখোশ বা মূর্তি তারা বানাবে না। কারণ এ সকল প্রাণী হিন্দু পুরাণ উপনিষদ কিংবা মহাভারতের দেবদেবীদের সাথে মিলে না। দেখবেন তারা ঐ সকল পশুপাখি মূর্তি বা মুখোশ বেশি ব্যবহার করে যেগুলো তাদের কথিত দেবদেবীর বাহন বা প্রিয় পাত্র ছিল।

সনাতন হিন্দু ধর্মে অনেক দেবদেবীর সাথে নির্দিষ্ট বাহন (যান) যুক্ত থাকে, যা তাদের শক্তি, গুণ ও প্রতীকের অর্থ প্রকাশ করে। নিচে কিছু দেবতা ও তাদের বাহন উদাহরণসহ দেওয়া হলো:

১. ভগবান শিব বাহন —নন্দী / ষাঁড়
২. ভগবান বিষ্ণু বাহন—-গরুড় /ঈগলসদৃশ পাখি ।
৩. দেবী দুর্গা বাহন– – সিংহ কখনও বাঘও বলা হয়।
৪. ভগবান গণেশ বাহন—- ইঁদুর
৫. কার্তিকেয় বাহন—- -ময়ূর
৬. দেবী সরস্বতী বাহন—- রাজহাঁস (হাঁস)
৭. দেবী লক্ষ্মী বাহন——- পেঁচা
৮. যমরাজ বাহন——- –মহিষ
৯. শনি দেব বাহন——- -কাক (বা শ্যামপাখি)
১০. ইন্দ্র বাহন———- -ঐরাবত (সাদা হাতি)
১১। বায়ু দেব বাহন———হরিণ
১২।বরুণ দেব বাহন– – মকর, কুমির
১৩ । সূর্য দেব বাহন——— সাতটি ঘোড়ার রথ
১৪ । শীতলা দেবী বাহন——-গাধা

মঙ্গল শোভাযাত্রায় অতিথিরা যারা অংশগ্রহণ করেছেন তারা অবশ্যই উল্লিখিত পশু পাখিগুলোর মুখোশ ছবি বা মূর্তি দেখে থাকবেন। কখনো কি মনে প্রশ্ন করেছেন ছাগল ভেড়া উট দুম্বা বা মোরগ-মুরগি ও কবুতরের মূর্তি, মুখোশ বা ছবি নেই কেন? আগামীকাল যারা যাবেন দয়া করে আয়োজকদের এই প্রশ্নটা করে দেখবেন তারা কি জবাব দেয়।

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন কেন চালানো হয়। সাংস্কৃতিক আকর্ষণ চালানো হয় রাজনৈতিক আগ্রাসনের পটভূমি তৈরি করার জন্য। কারণ তারা জানে শতকরা ৯০ জন মুসলিমের এই দেশে যদি ইসলামী আদর্শের প্রতিফলন ঘটে কিংবা ইসলামী সংস্কৃতি ও মুসলিম শাসনের ইতিহাস ঐতিহ্য অনুযায়ী সমাজ পরিচালিত হয় তাহলে সে সমাজে ব্রাহ্মণ্যবাদী আগ্রাসন চালানো সম্ভব হবে না। মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ব্রাহ্মণ্যবাদী আগ্রাসনের মোকাবেলা করবে।

এ কারণে ব্রাহ্মণ্যবাদী আগ্রাসনের কিছু পেইড এজেন্ট যারা মুসলিম নাম ধারণ করে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের মাঝে পৌত্তলিক সংস্কৃতি চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ১৯৭১ সালের পরবর্তী সময় থেকে এর প্রভাব বেশি করে প্রতিফলিত হচ্ছে। পৌত্তলিক সাংস্কৃতির এই আগ্রাসনের ফলে এদেশের ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসী মুসলমানের সন্তানেরা ইসলামী নাম ধারণ করবে, মাঝে মাঝে তারা নামাজ রোজা পালন করবে কিন্তু তাদের চিন্তা ও চেতনা হবে ইসলামবিদ্বেষী, ইসলামী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিরোধী। ইসলামের প্রকৃত অনুসারীদেরকে তারা জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসী রগ কাটা বলে সম্বোধন করবে। ইসলামী সোনালী যুগের শাসনকে তারা মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলবে। স্বধর্মবিদ্বেষী এইরকম ব্যক্তিরা যখন সমাজে নেতৃত্ব দিবে তখন এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা পৌত্তলিক ও ব্রাহ্মণ্যবাদী সংস্কৃতির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হতে বাধ্য হবে। এরকম মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্রাহ্মণ্যবাদী আগ্রাসন পরিচালনা করা খুবই সহজ হবে।

ব্রাহ্মণ্যবাদী আগ্রাসনের দোসর পেইড এজেন্ট দেরকে চেনার উপায় কি? তাদের চেনার অন্যতম উপায় হল তারা ইসলামী নাম ধারণ করবে, ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসী হয়েও নিজেকে মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। তারা কথায় কথায় ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করবে, নেতিবাচক সমালোচনা করবে, ইসলাম ধর্মের কুৎসা রটনা করবে , তাদের প্রধান কাজ হল দ্বীন ইসলামের ত্রুটি খুঁজে বের করা। কিন্তু অন্য কোন ধর্মমতের ব্যাপারে তাদের এমন আচরণ লক্ষ্য করা যায় না। ইসলাম ধর্ম ব্যতীত পৃথিবীর সকল ধর্মমতকে তারা শ্রদ্ধা করবে, ভক্তিতে গদগত হবে, অন্য কোন ধর্মের বিষয়ে নেতিবাচক সমালোচনা কখনোই করবে না। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মের পূজা-পর্বণ উদযাপনের সময় তারা মন্তব্য করবে যে, “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” । অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানাদিকে সার্বজনীন বলে প্রচার করবে। কিন্তু ইসলাম ধর্মের কোন অনুষ্ঠানকে তারা সার্বজনীন বলবে না। এরাই হচ্ছে ব্রাহ্মণ্যবাদী আগ্রাসনের দোসর ও এইড এজেন্ট।

ঠিক এই জাতীয় কিছু নেতা-নেত্রীর মাধ্যমে আমাদের দেশে ইসলামী সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে অবমূল্যায়ন করে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিজাতীয়, বিধর্মীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মতাদর্শ মুসলিমদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা সচেতন তাদের উচিত অচেতনকে জাগিয়ে তোলা। পহেলা বৈশাখ নববর্ষ এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার বিশ্বাস অনুযায়ী ইসলামী ইতিহাস ঐতিহ্যের আলোকে পালিত হোক এটাই আমাদের কাম্য হওয়া উচিত।

ইবনে শাহ

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews