
পার্বতীপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগ কার্যালয়ে শুক্রবার এক তাৎপর্যপূর্ণ শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন পার্বতীপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন পার্বতীপুর উপজেলা সভাপতি ওসমান আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল ভাইস-চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগ-এর অঞ্চল পরিচালক আব্দুল কাদের।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি শ্রমিক শ্রেণির দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের প্রতীক। তিনি বলেন, “শ্রমিকই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রমের উপর দাঁড়িয়ে একটি জাতির উন্নয়ন গড়ে ওঠে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, শ্রমিকদের ঐক্য, সচেতনতা এবং সংগঠিত ভূমিকা ছাড়া তাদের অধিকার পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
সভাপতির বক্তব্যে ওসমান আলী বলেন, ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইসলাম শ্রমিককে কেবল কর্মচারী হিসেবে নয়, বরং সম্মানিত মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে। শ্রমের যথাযথ মূল্য প্রদান, শোষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মানবিক আচরণ করা প্রতিটি নিয়োগকর্তার দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ইসলামী মূল্যবোধ অনুসরণ করলে সমাজে ন্যায়বিচার ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগ পার্বতীপুর সভাপতি মাজেদুল ইসলাম জীবন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন পার্বতীপুর উপজেলা শাখার নির্বাহী সদস্যবৃন্দ, রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলার বিভিন্ন স্তরের শ্রমিকরা।
সমাবেশে বক্তারা শ্রমিকদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে শ্রমনীতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে শ্রমিকদের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।