
ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নওগাঁর ধামইরহাটে গবাদি পশুর খামারগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা তুঙ্গে। দিন-রাত এক করে পশুর পরিপক্ব পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার ধামইরহাটে স্থানীয় চাহিদার চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ধামইরহাট উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলিয়ে কোরবানির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে ৭১ হাজার ৪৯৪টি গবাদিপশু। অথচ এই বছর উপজেলায় কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে মাত্র ৩৩ হাজার। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ৩৮ হাজার ৪৯৪টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের অন্যান্য জেলার পশুর ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, প্রস্তুতকৃত ৭১ হাজার ৪৯৪টি পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যা যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে ছাগল: ৪৩ হাজার ৬১৮টি, গাভী: ১০ হাজার ১২৫টি, ষাঁড় গরু: ৮ হাজার ১৯৬টি, ভেড়া: ৬ হাজার ৯২৫টি, বলদ: ১ হাজার ২২৪টি, মহিষ: ৭১২টি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পশুখাদ্যের চড়া দামের পরও ভালো লাভের আশায় তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জন করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে এসব পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। শেষ সময়ে পশুর বাড়তি যত্ন ও হাটে তোলার প্রস্তুতিতে এখন কাটছে খামারিদের ব্যস্ত সময়। সঠিক সময়ে পশুর কাঙ্ক্ষিত দাম পেলে গত কয়েক বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, খামারিরা যাতে পশুর ন্যায্য মূল্য পান এবং কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের খপ্পরে না পড়েন, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। সুস্থ-সবল পশু হাটে তোলার ব্যাপারে খামারিদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধামইরহাটের এই বিপুল উদ্বৃত্ত পশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পশুর হাটে পাঠানো হবে।
সব মিলিয়ে ধামইরহাটে কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত জোগান থাকায় এবার পশুর হাটগুলো জমজমাট হবে এবং ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পশু কিনতে পারবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।