
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ রেলওয়েকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে দিনাজপুরে এক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের ১ নং প্ল্যাটফর্মে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা। বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শিপন-এর সভাপতিত্বে এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভাগীয় কমান্ড্যান্ট মো. মোরশেদ আলম-এর সঞ্চালনায় গণশুনানিতে সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা সরাসরি রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।
গণশুনানিতে সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের অর্থ সম্পাদক আব্দুস সালাম ও উপস্থিত প্রতিনিধিরা বেশ কিছু গুরুতর সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর রেলওয়ে জিআরপি থানার ভবনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে জানান, এ ভবন অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখনো সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ফলে পুলিশ সদস্যরা জীবনঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি থানায় যাতায়াতের সঠিক রাস্তা পর্যন্ত অবশিষ্ট নেই বলেও অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে এবি এম জিয়াউর রহমান যিনি ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট-এর দ্বায়িত্ব রয়েছেন, নিতীমালা অনুযায়ী একজন সুপারিন্টেন্ডেন্ট ৩ বছরের বেশি একই জায়গায় চাকুরি করতে পারেনা। কিন্তু আমরা দেখছি তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে দিনাজপুরে কিভাবে আছেন, বক্তারা প্রশ্ন তুলেন এতো বছরে কি একজন যোগ্য লোক পাওয়া সম্ভব হয়নি রেল কর্তৃপক্ষের।
বক্তারা আরোও বলেন, তার উপস্থিতিতেও দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের অবকাঠামোর অবনতি হচ্ছে, সরকারি সম্পত্তির যত্ন নেওয়া এটা তো তার দায়িত্ব, কিন্তু রেলওয়ে স্টেশনের বহির্বিভাগে গেলে দেখা যায় পানি দিয়ে এর বহির্বিভাগ তলিয়ে যায়, মোটর বন্ধ করাও প্রয়োজন মনে করেন না তারা, যাত্রীদের এই ময়লা পানি দিয়েই হেঁটে যেতে হয়। প্ল্যাটফর্মের বহির্বিভাগ ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকে।
এছাড়া পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত রেলওয়ের বহু ঝুঁকিপূর্ণ কোয়ার্টার দখল হয়ে থাকার অভিযোগ ওঠে। বক্তারা জানান, যাদের নামে কোয়ার্টার বরাদ্দ তারা সেখানে না থেকে সাধারণ মানুষের কাছে ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছেন। আবার অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এখনো রেলওয়ের জমি দখল করে বসবাস করছেন, যা রেলওয়ে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
গণশুনানিতে রেলওয়ের সার্বিক উন্নয়ন, যাত্রীসেবা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রেলওয়ে কর্মকর্তারা উত্থাপিত সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।