1. live@www.manabkotha.com : মানবকথা ডটকম : মানবকথা ডটকম
  2. info@www.manabkotha.com : মানবকথা ডটকম :
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পিআইডি, রংপুর’র আয়োজনে স্বচ্ছ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত এনসিপি’র উদ্যোগে পার্বতীপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা হিলি ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস আজ হাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষায় এক আসনের বিপরীতে লড়বেন ৫২ জন বিজিবি’র অধিনে উত্তর পশ্চিম রিজিয়ন রংপুর সেক্টরের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত ​চিরিরবন্দরে আত্রাই নদী থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার ফুলবাড়ীতে ভুয়া ডিবি পুলিশের পরিচয়ে দিয়ে অপহরণ মুক্তিপণ দাবী ও যৌথবাহিনীর হাতে আটক কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা দিনাজপুরে আত্মসাৎ করা ২৫ লাখ টাকা ফেরতের নির্দেশ মানছেন না অধ্যক্ষ জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে শীতার্ত ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা

কালের সাক্ষী দিনাজপুরের নয়াবাদ মসজিদ

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

 

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

জেলার কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কান্তজি মন্দির থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে নয়াবাদ গ্রামের ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
জনশ্রুতি রয়েছে, ১৭২২ সালে তৎকালীন দিনাজপুর মহারাজা প্রাণনাথ বর্তমান কাহারোল উপজেলার কান্তনগর গ্রামে একটি মন্দির নির্মাণের জন্য মধ্যপ্রাচ্য দেশ মিশর থেকে একদল সুদক্ষ স্থাপনা নির্মাণ কারিগর নিয়ে আসেন।
আগত কারিগরেরা সবাই মুসলমান ও ধার্মিক ছিলেন । এদেশে মন্দির নির্মাণ কাজে এসে ভুলেননি নিজ ধর্ম পালন করার কথা।
নির্মাণ কালীন সময় মন্দিরের পাশেই খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করতেন কারিগরেরা। এরই মধ্যে কারিগরদের প্রধান (হেডমিস্ত্রি) নেয়াজ ওরফে কালুয়া মিস্ত্রি মহারাজার দরবারে গিয়ে সব মিস্ত্রিদের থাকা ও ধর্ম পালনের নিমিত্তে একটি মসজিদ নির্মাণের জায়গার আবেদন জানান।
এ সময় মহারাজা কান্তজি মন্দির থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে জেলার কাহারোল উপজেলার ঢেপা নদীর পশ্চিম কোল ঘেষে অবস্থিত নয়াবাদ গ্রামে ১ দশমিক ১৫ বিঘা জমি মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গা দেন। এ ছাড়া মসজিদের পাশে তাদের থাকার জন্য বাড়ি করার নির্দেশ দেন মহারাজা।
মহারাজার নির্দেশ মোতাবেক মিস্ত্রিরা মন্দিরের পাশাপাশি নয়াবাদ গ্রামে নিজেদের থাকার বাড়ি ও নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়। নয়াবাদ মসজিদ নির্মাণের পর তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন সেখানে।
এক পর্যায়ে মহারাজা প্রাণনাথের মৃত্যুর পর তারই দত্তক ছেলে মহারাজা রামনাথের আমলে গত ১৭১৫ সালে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এরই মধ্যে মন্দিরের পাশাপাশি মসজিদের কাজ শেষ করেন মিস্ত্রিরা। মন্দির নির্মাণ কাজে কালুয়া মিস্ত্রির নেতৃত্বে আসা মিস্ত্রিরা মন্দির নির্মাণের কাজ শেষে ফিরে যায় নিজ দেশে। কিন্তু এদেশ ছেড়ে যেতে চায়না নেয়াজ ওরফে কালুয়া মিস্ত্রি ও তার ছোট ভাই নিয়ামুল হক।
আবার নেয়াজ মিস্ত্রি মহারাজার দরবারে হাজির হয়। এবার স্থায়ীভাবে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহের জন্য মহারাজার কাছে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহের জন্য কিছু জমির আবদার করেন। তাৎক্ষণিক মহারাজা কিছু জমি তাদের দুই ভাইকে দান করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মিশরীয় এ দুই ভাই মহারাজার দানকৃত জমিতে ফসল আবাদ করে দিনাতিপাত করেন।
হাফেজ মাওলানা মোঃ রায়হানুল ইসলাম জানান, তাদের পূর্ব পুরুষ ওই দুজনের মৃত্যুর পর নেয়াজ ওরফে কালুয়া মিস্ত্রি ও তার ছোট ভাই নিয়ামুল হককে নয়াবাদ মসজিদ সংলগ্ন দাফন করা হয়। এ মিস্ত্রিদের নামনুসারে অত্র এলাকার নাম হয় নয়াবাদ মিস্ত্রিপাড়া। বর্তমানে মন্দির ও মসজিদ নির্মাণের হেড মিস্ত্রি ও তার ছোট ভাইয়ের বংশধররা নয়াবাদ মিস্ত্রিপাড়ায় বসবাস করছে।
কালুয়া ওরফে নেওয়াজ মিস্ত্রির বংশধরনের জানান,তাদের পূর্ব পুরুষরা এখন নেই। কিন্তু এখন স্মৃতি হিসেবে এ নয়াবাদ মসজিদটি রয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা কান্তজি মন্দির পরিদর্শনে এসে এ মসজিদটি পরিদর্শন করেন।
তারা জানান, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে এ নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শনে পর্যটকদের ভিড় বেড়েই চলছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে নতুন মুসল্লিদের সমাগমও রয়েছে। প্রতিদিন ওই গ্রামের লোকজনকে আগত পর্যটকদের এ ঐতিহাসিক মসজিদের নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। অনেক পর্যটকই জানতে চান কান্তজি মন্দিরের সঙ্গে এ মসজিদের কি সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃত বিষয়ক পর্যটকরা জানতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
দিনাজপুর কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মীম জানান, ঐতিহাসিক কান্তজি মন্দির পরিদর্শনের পাশাপাশি পর্যটকদের ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শনে আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে।
ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদটি পূর্ব থেকেই পর্যটন কেন্দ্রের আওতাভুক্ত করার জন্য প্রস্তাবনা রয়েছে। মসজিদটি গ্রামবাসীর তত্ত্বাবধানে আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট