
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুর সদর উপজেলার আটোর মোহাম্মদীয়া ফাযিল (স্নাতক) মাদরাসার অধ্যক্ষ আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসা ফান্ডের প্রায় ২৫ লাখ ২৩ হাজার ২৬০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক, দুদক এবং মাদরাসা পরিচালনা কমিটির কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ নভেম্বর ২০২৪ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মাদরাসার বিবিধ আয়ের ২৫ লাখ ২৩ হাজার ২৬০ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে অধ্যক্ষ আহসান হাবিব ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন। এই বিপুল পরিমাণ টাকা আদায়ে গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক দুটি আবেদন করা হয়।
উক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি শুনানি পরিচালনা করেন। শুনানিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সত্য বলে প্রমাণিত হয়। ওই সময়ই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নির্দেশ দেন যে, আত্মসাৎকৃত টাকা অতিসত্বর মাদরাসার অফিসিয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত অধ্যক্ষ আহসান হাবিব আত্মসাৎকৃত টাকার কোনো অংশই মাদরাসার ফান্ডে জমা দেননি। তার এই অবাধ্যতা ও দুর্নীতির কারণে মাদরাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রশাসনের নির্দেশ তোয়াক্কা না করায় অধ্যক্ষ আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে এখন ফুঁসে উঠেছে পুরো এলাকা। মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি: অধ্যক্ষ কেবল সরকারি নির্দেশই অমান্য করেননি, বরং আমানতের খেয়ানত করে মাদরাসাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। তারা অবিলম্বে এই অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে গ্রেফতার, আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার এবং তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।