
মধ্যযুগের সভ্যতা কিংবা মধ্যযুগীয় বর্বরতা আমাদের দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বক্তব্য। কথায় কথায় মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলে নির্দিষ্ট একটি আদর্শকে কটাক্ষ করা হয়। সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা হলো মধ্যযুগ, মধ্যযুগ, বলে যারা সবচাইতে বেশি কথা বলে তাঁরা সকলেই মধ্যযুগের উৎপাদিত ফসলের সর্বশেষ নিকৃষ্টতম প্রজন্মের উদাহরণ। পৃথিবীতে যত স্বজাতি বিদ্যেষী আছে তারা সকলেই মনে হচ্ছে মুসলিম জাতির সুসন্তানের কুসন্তান।
পৃথিবীর সকল ধর্মে যৌন সহিংসতাকে গুরুতর পাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুতর পাপসমূহকে সামাজিকভাবে প্রতিহত করা হয়, এজন্য সকল ধর্ম মতে যৌন সহিংসতা কিংবা ধর্ষণ কারীর প্রকাশ্যে বিচারের প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবশালী কিংবা সমাজ পরিচালনাকারী ব্যক্তিবর্গ যখন যৌন সহিংসতা/ ধর্ষণ করে কিংবা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন ধর্মীয় বিধি-বিধানের বিচার পদ্ধতি লংঘন করে অতি গোপনে গুরুতর অপরাধে লঘুদন্ড প্রদান করে বিচারকার্য সম্পন্ন করে। কিন্তু সাধারণ জনগণ একই পাপে গুরুতর শাস্তি প্রকাশ্যে পেত। অর্থাৎ প্রভাবশালী ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের জন্য এক ধরনের বিচার, আর সর্বসাধারণের জন্য অন্য ধরনের বিচার।
স্বজনপ্রীতি ও দুরাচারী বিচারের এই পদ্ধতি ইসলামী শাসনব্যবস্থা ভেঙ্গে চুরমার করে প্রভাবশালী থেকে সাধারণ কৃষক মজুর পর্যন্ত একই আইনে একই পদ্ধতির শাস্তি প্রয়োগ করে। ইসলামী খেলাফতের ন্যায় ও ইনসাফের এই ব্যবস্থা সারা পৃথিবীর মানুষের মন জয় করে। অতি দ্রুত সমস্ত পৃথিবীতে ইসলামী সভ্যতা বিকশিত হয়। ইসলামী শাসনের ন্যায় ও ইনসাফের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে ইসলাম বিরোধীরাও প্রশ্ন উত্থাপন করেনি। বরং প্রত্যেকের ধর্মমত অনুযায়ী বিচারের ব্যবস্থা ইসলামী খেলাফত নিশ্চিত করতে।
এ কারণে ইসলামী শাসনের সময়কাল ৬২৫ খৃষ্টাব্দ থেকে ১৭০০ সাল যাকে আজ মধ্যযুগ বলে, এই মধ্যযুগ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে উন্নয়নের স্বর্ণযুগ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, জ্ঞান-বিজ্ঞান অবকাঠামো, যোগাযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা সকল বিষয়ে মধ্যযুগ ছিল পৃথিবীবাসীর জন্য স্বর্নালী সভ্যতার নিদর্শন। ইসলামী খেলাফতের অর্থাৎ মধ্যযুগের সেই ইসলামী সভ্যতার হাত ধরে আজকের আধুনিক কালে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতা পরিপূর্ণতা পেয়েছে। পৃথিবীর সভ্য জগতের বাসিন্দারা মধ্যযুগের ইসলামী খেলাফতের অবদান আজও অস্বীকার করতে পারে না। দ্বীন ইসলামের কট্টর দুশমনেরা ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রচার করার উদ্দেশ্যে ইসলামী খেলাফতের কুৎসা রটনা করে, তাদের একমাত্র কাজ ইসলামী খেলাফত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রবাকাণ্ডা প্রচার করা। এর কারণ তারা মনে করে দ্বীন ইসলামের সভ্যতা তাদের অসভ্যতার মুখোশ খুলে দেবে।
সাম্প্রতিক আমাদের দেশে যৌন সহিংসতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক শিশুর জীবন অকালে ঝরে যাচ্ছে। আছিয়া ও রমিছার ধর্ষণ ও হত্যা সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করে, ফলে অনেকেই ধর্ষক খুনিদের প্রকাশ্য শাস্তি দাবি করছে। ধর্ষক ও খুনিদের বিচার ন্যায় ও ইনসাফের সাথে সম্পূর্ণ হলে প্রকাশ্যে শাস্তি প্রয়োগ হবে, সমাজে এর প্রভাব প্রতিফলিত হবে। অতি দ্রুত সামাজিকভাবে ধর্ষণ ও শিশু হত্যা বন্ধ হয়ে যাবে। এর সাথে মধ্যযুগের কোন সম্পর্ক নেই। বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে জনগণ দাবী তুলছে। কিন্তু সমস্যা হল চূনো-পুটি ধরার জালে রাঘব-বোয়ালও ধরা পড়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ আমাদের দেশের প্রভাবশালী, রাজনৈতিবিদ, শিল্পপতি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের বেশির ভাগ সদস্য অন্যায় অবিচার ও অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত। তাইতো তারা সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে তারাই সর্বপ্রথম দন্ডিত হবে।
ইনসাফপূর্ণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে সকলের নাক কাটা যাবে। এ কারণে সকলেই চেষ্টা করে ইনসাফপূর্ণ ন্যায়বিচার যেন কখনো প্রতিষ্ঠার হতে না পারে। মূলত এ কারণে কথায় কথায় তারা মধ্যযুগীয় বর্বরতা অনুভব করে এবং অনুভব করে ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে। স্বজাতি বিদ্বেষী ঐ সকল প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ শিল্পপতি মিডিয়ার সুশীলদের কথা মনে হলে বলতে ইচ্ছে করে—-
“কোটি কোটি সন্তান তোমার হে বঙ্গ জননী
রেখেছ বাঙালি করে, — মানুষ করোনি”
নামে মুসলমান হলেও মুসলিম বানাওনি’!