বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভুট্টা বিক্রির ৩৫ লাখ টাকা না পেয়ে ৪০ কৃষকের সংবাদ সম্মেলনে  ধামইরহাটে ৫ বছরের শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, থানায় অভিযোগ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সীমান্ত হত্যা। পার্বতীপুর ৯২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার: নেপথ্যে কারা, উঠছে নানা প্রশ্ন কুড়িগ্রামের রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারীতে তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মধ্যপাড়া খনিতে উৎপাদনের গতি ফিরেছে, রাজস্বে নতুন সম্ভাবনা—বাধা রেলপথ জমি বিরোধে আপন ভাতিজার হাতে চাচা খুন, সৈনিকসহ দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ধামইরহাটে ৭৫ লিটার চোলাই মদসহ গ্রেফতার- ১ মাগুরায় জেলা বণিক সমিতির দ্বি- বার্ষিক নির্বাচনে ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ ধামইরহাটে সর্বদলীয় নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধায় ও অশ্রুসিক্ত নয়নে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ ওয়াদুদের দাফন

ভারতে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়চন্দ্র সরকার : ত্রিভুজ প্রেমের বলি?

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

পার্বতীপুর প্রতিনিধি:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রহস্যজনকভাবে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়চন্দ্র সরকারের (২৩) শেষকৃত্য শুক্রবার সকালে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার নিজ গ্রামে সম্পন্ন হয়েছে। তবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও তার মৃত্যুর রহস্য এখনো কাটেনি। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং একটি ত্রিভুজ প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে জয়চন্দ্রকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্বজনদের দাবি, জয়চন্দ্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত এক নেপালি তরুণীর ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই তরুণীর সঙ্গে এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে জয়চন্দ্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। আর এই বিরোধের জেরেই জয়চন্দ্রকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের সন্দেহ।

পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার জয়চন্দ্রকে প্রথমে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এতে তার মৃত্যু না হলে পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়—এমনটাই দাবি নিহতের পরিবারের।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভারতের ময়নাতদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বিষ প্রয়োগসহ মৃত্যুর আগে তার শরীরে বিভিন্ন ধরনের আঘাত বা আলামতের বিষয় উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্বজনরা।

জয়চন্দ্রের পরিবারের হাতে থাকা তার প্রেমিকার সঙ্গে তোলা একাধিক ছবি, বিভিন্ন তথ্য ও পারিবারিকভাবে সংগৃহীত নথিপত্রের ভিত্তিতে তারা ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি সামনে এনেছেন। পরিবারের দাবি, এসব তথ্য তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিহতের বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকার বলেন, ছেলে ছিল পরিবারের বড় সন্তান। দিনাজপুরের হলিল্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৪ সালে ভারতে যায় জয়চন্দ্র। প্রথমে দিল্লির সারদা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়। পরে ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটিতে বিটেক ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল।

বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের ভাষ্য, বিদেশের মাটিতে পড়াশোনা করে ছেলে একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন স্বপ্নই দেখেছিলেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই মাত্র ২৩ বছর বয়সে জয়চন্দ্রের রহস্যজনক মৃত্যু পুরো পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমাদের ছেলে আত্মহত্যা করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। আমরা চাই, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”

জয়চন্দ্রের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য জানা জরুরি। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত, ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল, মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফল সামনে এলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সহজ হতে পারে।

পরিবারের অভিযোগ সত্য হলে এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হতে পারে। আবার তদন্তে ভিন্ন কোনো কারণও উঠে আসতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব তথ্য-প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

একজন সম্ভাবনাময় তরুণ শিক্ষার্থীর বিদেশের মাটিতে এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। জয়চন্দ্রের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, দায়ীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

এখন পরিবারের একটাই প্রশ্ন—জয়চন্দ্র কি সত্যিই আত্মহত্যা করেছিলেন, নাকি ত্রিভুজ প্রেমের জটিল সম্পর্কের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews