
কুড়িগ্রাম থেকে মোস্তাফিজুর রহমান : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রতিদিনের ন্যায় বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৭ হাজার পিস ইয়াবার খোঁজে ভূরুঙ্গামারীর মুগ্ধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে মাদক খেকোকে আটকাতে সক্ষম হলেও ম্যানেজারসহ অন্যরা পলাতক।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘মুগ্ধ আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্তঃজেলা মাদক চোরাচালানের এক বিশাল নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। নিয়মিত নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে হোটেলটিতে অভিযান পরিচালনা করে ভূরুংগামারী থানা পুলিশ। এ সময় হোটেল থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ ২ মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং উদ্ধার করা হয় মাদক কারবারের নানা আলামত।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হোটেলটির মালিক আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল বাবু পিতা মৃত আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা এই হোটেলে নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলেছিল। হোটেলের ম্যানেজার মোঃ রাকিবুল ইসলাম (২৩) সে শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালঝোড় গ্রামের মো: সাইফুরের পুত্র। শালঝোড় সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে হোটেলে অবস্থানরত মাদককারবারিদের হাতে তুলে দিতেন বলে জানা গেছে। এরপর নিরাপদ উপায়ে সেই মাদক চলে যেত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
গ্রেপ্তারকৃত মাদককারবারিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে ম্যানেজার রাকিবুলের এই চোরাচালান চক্রে সরাসরি জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। এছাড়া হোটেলের প্রতিটি কক্ষেই মাদক সেবনের বিশেষ ব্যবস্থা ও সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে।
পুলিশের উপস্থিতির আগে মুগ্ধ হোটেলের ম্যানেজার রাকিবুল সুকৌশলে পালিয়ে গেলেও ইয়াবার বড় চালানটি বগুড়া ও ঢাকা থেকে আগত কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে চড়া দামে বিক্রি অথবা সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবী করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ভূরুংগামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ডের মুগ্ধ আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষ সরাসরি মাদক কারবারের সাথে জড়িত বলে আমরা বেশ কিছু দিন ধরে হোটেলটির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে ইয়াবার একটি বড় চালান হাতবদল হওয়ার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা তাৎক্ষণিক এই অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে মাদক কারবারের সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে, একজন মাদকাসক্তকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও অনেকে ছিল। হোটেল ম্যানেজার পলাতক রয়েছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
উপরোক্ত বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আজিম উদ্দিন’র সাথে মুঠোফোনে সন্ধ্যা ৬টা ৫-এ কথা হলে তিনি বলেন, আমি একটা মিটিংয়ে আছি এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারবো না। থানায় গিয়ে বলতে পারবো।
মুগ্ধ হোটেলে অভিযান চালিয়ে আটক মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৯) পিতা- মৃত আঃ ছাত্তার, মাতা- রোবেদা বেওয়া, সাং- ধর্মকাম শাহাবন্দেগী, থানা- শেরপুর থানা, জেলা- বগুড়াকে ১৫ দিন ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং মো: আবু বক্কর (২০) পিতা: মো: আশরাফুল আলম সাং- বীর ধাউরার কুটি। থানা- ভূরুঙ্গামারী জেলা- কুড়িগ্রামকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ০৫ দিনের জেল ও ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভূরুংগামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা অভিমান পরিচালনায় যাওয়ার পথে মাদককারবারীর সাথে জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যের ফোনে মুগ্ধ হোটেলের ম্যানেজারসহ অন্যদেরকে সরিয়ে ফেলেছে।