সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সৈয়দপুর নাশকতার মামলায় যুবলীগ নেতা ভিপি ফিরোজ গ্রেপ্তার পার্বতীপুরে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মশালমিছিল পীরগঞ্জে কুকুর-শেয়ালের কামড়ে ৬৩১ জন, বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ প্রায় ৩ বছর ভারতে কারাভোগের পর দেশে ফিরলেন ৩ বাংলাদেশি ভুট্টা বিক্রির ৩৫ লাখ টাকা না পেয়ে ৪০ কৃষকের সংবাদ সম্মেলনে  ধামইরহাটে ৫ বছরের শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, থানায় অভিযোগ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সীমান্ত হত্যা। পার্বতীপুর ৯২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার: নেপথ্যে কারা, উঠছে নানা প্রশ্ন কুড়িগ্রামের রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারীতে তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মধ্যপাড়া খনিতে উৎপাদনের গতি ফিরেছে, রাজস্বে নতুন সম্ভাবনা—বাধা রেলপথ

বড়পুকুরিয়ায় খনির ১৬৮ শ্রমিকে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চলছে

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

পার্বতীপুর প্রতিনিধি:
চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ১৬৮ জন কর্মহীন খনি শ্রমিক লাগাতার বিক্ষোভ, মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন সোমবারও অব্যাহত ছিল।

সোমবার দুপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চাকরি হারানো শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট করছেন। বিকেল ৪টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সাংবাদিকদের জানান, অবিলম্বে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, প্রায় আট বছর আগে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে ভূগর্ভে কয়লা উত্তোলনের প্রস্তুতি হিসেবে টানেল বা সুড়ঙ্গ নির্মাণকাজের জন্য খনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’ কনসোর্টিয়াম তাদের খনি শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেয়।
শ্রমিকদের দাবি, ২০২২ সালে পেট্রোবাংলার সঙ্গে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র ২০২৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন চুক্তি হয়। ওই চুক্তির পর মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাব-কন্ট্রাক্টর ‘জেএসএমই’ ১৬৮ জন শ্রমিকসহ বিপুলসংখ্যক শ্রমিককে ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণকাজে নিয়োজিত করে।
শ্রমিকরা আরও দাবি করেন, ওই সময় নিয়োগ পাওয়া ১ হাজার ১৪৩ জন শ্রমিকই মূলত চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে টানেল নির্মাণকাজে নিয়োজিত এসব শ্রমিকের আর প্রয়োজন নেই—এমন কারণ দেখিয়ে তাদের কাজে যোগদানে বাধা দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার সকালে কাজে যোগ দিতে গেলে ১৬৮ জন শ্রমিককে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় উত্তেজনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহল দিতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, কর্মহীন শ্রমিকরা মূল ঠিকাদারি চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র সাব-কন্ট্রাক্টর ‘জেএসএমই’র নিয়োগকৃত। তাদের বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষের সরাসরি করার তেমন কিছু নেই। তবে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষ সহানুভূতিশীল ছিল এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

শ্রমিকরা দ্রুত তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews