
সাকিব আহসান, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বাঁশগাড়ায় রুস্তম আলীর গরুর খামারকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও। সংস্থাটির ‘Rural Microenterprise Transformation Project’-এর আওতায় একটি দল খামারটির কার্যক্রম, উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এ ধরনের উদ্যোগের ভূমিকা তুলে ধরতে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের জন্য সেখানে আসে।
গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত প্রাণিসম্পদ। গরুর খামার শুধু দুধ ও মাংস উৎপাদনের উৎস নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবারের আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতেও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে গরুর খামার গড়ে তুলতে পারলে একজন উদ্যোক্তার পাশাপাশি আরও কয়েকজন মানুষের জীবিকার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ বাস্তবতায় রুস্তম আলীর খামারকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।
প্রকল্পটির আওতায় ইএসডিওর প্রতিনিধি দল বাঁশগাড়ায় অবস্থিত রুস্তম আলীর গরুর খামারে এসে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে একজন স্থানীয় উদ্যোক্তার খামার পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং গ্রামীণ পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোগের সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ কার্যক্রমে ইএসডিওর টেকনিক্যাল অফিসার ওমর ফারুক উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি রুস্তম আলীর খামারের ফোকাল পারসন আইনুল হকও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের সঙ্গে কলকাতা, ভারতের আকাশ চৌধুরী সম্পৃক্ততার কথাও জানা গেছে।
গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোগের উন্নয়নে শুধু অর্থনৈতিক বিনিয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষতা বৃদ্ধি, সঠিক ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির ব্যবহার, বাজারসংযোগ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়। একটি গরুর খামার পরিচালনার ক্ষেত্রে পশুর স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত খাদ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, রোগ প্রতিরোধ এবং উৎপাদন ব্যয়ের হিসাব রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে উদ্যোক্তারা নিজেদের কার্যক্রমকে আরও পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে পারেন।
প্রামাণ্যচিত্রের মতো উদ্যোগের আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো, এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত উদ্যোগ বৃহত্তর পরিসরে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। একজন উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা অন্য উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ তৈরিতেও এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে অর্থায়ন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কারিগরি সহায়তা এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। এসব সহায়তা কার্যকরভাবে পাওয়া গেলে গরুর খামারের মতো উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে।
সব মিলিয়ে, ‘Rural Microenterprise Transformation Project’-এর আওতায় পীরগঞ্জের বাঁশগাড়ায় রুস্তম আলীর গরুর খামার নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম তুলে ধরার একটি উল্লেখযোগ্য প্রয়াস। এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা, সম্ভাবনা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।