
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভিডিপি সদস্য ওসমান আলী মানবসেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) তিনি স্বেচ্ছায় ৫৬তম বারের মতো রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল নজির স্থাপন করেন।
দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান করে তিনি অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও স্বেচ্ছাসেবার চেতনাকে আরও শক্তিশালী করছে। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাঁর এ উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাহিনীর সদস্যদের স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো উদ্যোগ মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা শুধু একজন রোগীর জীবনই বাঁচান না, সমাজে মানবিকতা, সহানুভূতি ও সেবার সংস্কৃতিও প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ইসলামেও মানবজীবন রক্ষাকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে দেখা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
“যে ব্যক্তি একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।”
(সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩২)
রক্তদান শেষে ওসমান আলী বলেন,
“আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানুষের জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই আমি নিয়মিত রক্তদান করি। একজন অসহায় রোগীর মুখে হাসি ফোটাতে পারা আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। যতদিন সুস্থ থাকব, ইনশাআল্লাহ এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখব। সবাইকে নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন,
“রক্তের কোনো বিকল্প নেই। একজন সুস্থ মানুষের একটি ব্যাগ রক্ত একজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।”
ওসমান আলীর ৫৬তম স্বেচ্ছায় রক্তদান নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করবে এবং মানবসেবার চেতনা আরও বিকশিত হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।