
কুড়িগ্রাম থেকে মোস্তাফিজুর রহমান : “বুকের ভিতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর” বলে দু’হাত প্রসারিত করে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ রংপুরের অদম্য সাহসী বীর যোদ্ধা শহীদ আবু সাঈদ তার বুকের তাজা রক্ত অকাতরে ঢেলে দিয়ে আন্দোলনকে ঝড়ের গতিতে বেগবান করেছে। তার কথা আজিবন ভুলার নয় বলে বক্তব্য রেখেছেন জুলাই আহত সম্মুখ যোদ্ধারা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল রংপুর-৩ আসনের এমপি বলেন- জুলাই যুদ্ধ হয়েছে বলে আজ মানুষ তার মতামত সঠিকভাবে ব্যাক্ত করতে পারছেন। আবার বিগত দিনে শেখ হাসিনার রোষানলে পরে নিষ্পেশিত হয়ে জেল জুলুমের শিকার হয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জনরায় মানতে চায়না। অবিলম্বে জনতার গণরায় গণভোটের আকাংখা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন জুলাই সংঘটিত না হলে নির্বাচন হতো ২৯ সালে। বিএনপি জুলাই সনদ মানে গণভোট মানে না। এটা কিভাবে সম্ভব। সংশোধন আর সংস্কার দুটি আলাদা। জুলাই সংঘটিত হয়েছে সংস্কারের জন্য। বিগত ৫৪ বছরে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে জুলাই যুদ্ধ হয়েছে। ছাত্ররা বলছে উই ওয়ান্ট জাস্টিস।
জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম টাউন হলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলা জামায়াতের ভার:সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়ার সঞ্চালনায় কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি ও জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সাবেক ছাত্রনেতা কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ২৫ কুড়িগ্রাম-১ আসনের এমপি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার।
এমপি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার বলেন- কি দুর্ভাগ্য এ জাতির বিগত দিনে যেরকম ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ চালিয়েছে বর্তমান সরকারও সে পথেই হাটছে। এটা দুঃখজনক। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সরকার দলীয় লোকদেরকে যত বরাদ্দ দেওয়া হয় তা বিরোধী দলীয় এমপিদেরকে দেওয়া হয়না। এমন বৈষাম্যের জন্য কি জুলাই আন্দোলন হয়েছে। আমরা বৈষাম্যের শিকার। আমারা এ বৈষাম্য দেখতে চাইনা। বৈষম্য দুর করতেই হবে।
জেলা শিবিরের সভাপতি মো: মোশারফ হোসেন বলেন শাপলা চত্বরের ঘৃণীত হত্যার কথা স্বরণ করিয়ে বলেন কি ভয়ঙ্কর অবস্থা ছিল তা ভুলার মতো নয়। অন্য কর্মের বিষদ আলোচনা করেন। তিনি আরও বলেন যারা এই জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় তা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সাবেক জেলা সেক্রেটারী মাওলানা মো: নিজাম উদ্দিন। কুড়িগ্রাম আহত জুলাই যোদ্ধা মো: ইমরান হোসেন তার বক্তব্যের শুরুতেই স্বরণ করেন শরীফ ওসমান হাদীকে, মীর মুগ্ধকে সহ অন্যান্য শহীদেরকে।
বাংলাদেশখেলাফত মজলিশের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি শবেবর রহমান ও খেলাফত মজলিশের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সেক্রেটারী মাওলানা নূর উদ্দিন কাসেমী।
শরীরে গুলিবিদ্ধ আহত জুলাই যোদ্ধা মো: আরিফুল ইসলাম বলেন আমার শরীরে গুলি লাগায় আমি আমার সন্তানকে কোলে নিতে পারিনা, ঘুমাতে পারিনা।
শহীদ নূর আলমের স্ত্রী মোছা: খাদিজা বলেন ২০ জুলাই আমার স্বামী গাজীপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আমার সন্তান বাবা বলে ডাকে তার জবাব কি দেই। হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে তার ফাঁসি দেওয়া হউক।
সভাপতির বক্তব্য রাখেন আলোচনা সভার সভাপতি কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন জালিম মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যারা জীবন দিয়েছে তাদেরকে স্বরণ করে তাদের জন্য জান্নাত কামনা করেন। তিনি আরও বলেন যারা শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করছেন তাদেরকে জাতি বেইমান হিসাবে দেখিয়ে দিবে ইনশাআল্লাহ।
স্বরচিত কবিতা আবৃতি করেন কুড়িগ্রাম জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও জেলা জামায়াত কর্ত্ক মনোনীত হলোখানা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: রাশেদুল ইসলাম রোমান।