
সোমবার (২৮ জুলাই ২০২৬ খ্রি.) দুপুরে পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তুলা উন্নয়ন বোর্ড, ঠাকুরগাঁও জোন, ঠাকুরগাঁও।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক। সভাপতিত্ব করেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহমুদ হুসাইন রাজু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব হুসাইন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সানাউল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার এ জেড এম আরিফুল হক রিয়েল, ঠাকুরগাঁও জোনাল অফিসের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, পার্বতীপুর কটন ইউনিট অফিসার আখতার মাহমুদ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আকরাম হোসেন মাস্টার, সাবেক প্যানেল মেয়র মঞ্জরুল আজিজ পলাশসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক ও সুধীজন।
অনুষ্ঠানে উপজেলার নির্বাচিত ৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে তুলা চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রতি কৃষককে ৩৩ শতক জমিতে তুলা চাষের জন্য নিম্নোক্ত উপকরণ প্রদান করা হয়—
উপকরণ বিতরণের সময় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনেক কৃষক বলেন, তুলা চাষের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ একসঙ্গে পাওয়ায় তাদের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে তারা নতুন উদ্যমে তুলা আবাদে আগ্রহী হবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক বলেন, “বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষিকে লাভজনক করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।”
তিনি আরও বলেন, “তুলা চাষে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। দেশের বস্ত্রখাতের বিপুল কাঁচামালের চাহিদা পূরণে নিজস্ব উৎপাদন বাড়াতে হবে। তুলা চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব।”
বিশেষ অতিথিরা কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, তুলা চাষে সময়সম্মত বপন, সুষম সার প্রয়োগ, আগাছা দমন এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে বলেও তারা আশ্বাস দেন।
প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, তুলা উন্নয়ন বোর্ড কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করে আসছে। এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষকদের তুলা চাষে আরও উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষকেরা জানান, ধান ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি তুলা চাষ লাভজনক হলে ভবিষ্যতে তারা আরও বেশি জমিতে তুলা আবাদ করবেন। সরকারের এ ধরনের সহায়তা কৃষকদের আর্থিকভাবে উপকৃত করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রতিবছর বস্ত্রশিল্পের চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানি করতে হয়। স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার দেশের বিভিন্ন জেলায় তুলা চাষ সম্প্রসারণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পার্বতীপুরে আয়োজিত এই কর্মসূচি সেই জাতীয় উদ্যোগেরই অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।