বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পার্বতীপুরে রেল পরিদর্শন মোটর ট্রলি ভেঙে ৫ জন আহত, পিডব্লিউআই গুরুতর জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত সভায় ব্যারিস্টার সালেহী এমপি সেতাবগঞ্জ স্টেশনের মূল গেট বন্ধ, যাত্রীদের ভোগান্তি রাজারহাটে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার, চলছে মোটরসাইকেল পেট্রোলিং মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা খুন: পিতা গুরুতর অবস্থায় রংপুরে: খুনি গ্রেফতার কুড়িগ্রামে কোচিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌমিক,সন্ধান চায় পরিবার পার্বতীপুরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স ফুলবাড়ীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী-রাজিবপুরে মাদকসহ জুয়া খেলায় ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ পীরগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত, আলোচনা শেষে পুরস্কার বিতরণ।

রানা প্লাজার ‘বিদ্রোহী’ নাসিমার প্রাণ গেল দৌলতদিয়া বাস ডুবি দুর্ঘটনায়, পার্বতীপুরে শোক

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৩২৮ বার পড়া হয়েছে

 

পার্বতীপুর প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আলোচিত রানা প্লাজার ‘বিদ্রোহী’ নাসিমা বেগম (৪০)। তার মৃত্যুতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শুক্রবার বাদ জোহর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

নিহত নাসিমা পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর জীবিকার তাগিদে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কাজের সন্ধানে সাভারে ভাগ্নি আজমিরা খাতুনের বাসায় যান। এক মাস চেষ্টা করেও চাকরি না পেয়ে ঈদ উপলক্ষে ভাগ্নির শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে অবস্থান করেন।

ঘটনার দিন (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে তিনি ভাগ্নি অন্তঃসত্ত্বা আজমিরা খাতুন, চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান ও আজমিরার স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদকে নিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসে রওনা দেন। পথে পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনার সময় সবাই নিখোঁজ হন। পরে ভাগ্যক্রমে আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা, তার ভাগ্নি ও শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বজনরা। পথে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়ির চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সাময়িক দুর্ঘটনায় পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু।

তিনি জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে ঢাকায় কাজের সন্ধানে যাওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের একজন সাহসী জীবিত উদ্ধারপ্রাপ্ত শ্রমিক ছিলেন। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews