রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পীরগঞ্জে সাংবাদিকতার অনুসরণীয় নাম;কাজী নুরুল ইসলাম। বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুস্ঠান জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার দাওয়াতি সমাবেশে –  ব্যারিস্টার সালেহী জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, নারীকে মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মাগুরার শ্রীপুরে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন! পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী, এলাকায় চাঞ্চল্য কুড়িগ্রামে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় ইস্কাফ, ইয়াবা মোটরসাইকেলসহ আটক-১৯ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার দয়িত্বশীল সমাবেশে অ্যাড: আতিকুর ভাদুরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত পীরগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাহত জলাবদ্ধতা ও কর্মহীনতায় বিপাকে ভ্যানচালক-দিনমজুর ধামইরহাটে সহকারী কমিশনার (ভুমি) হস্তক্ষেপে হাটের প্রবেশ পথ ফিরে পেল এলাকাবাসী

পীরগঞ্জে সাংবাদিকতার অনুসরণীয় নাম;কাজী নুরুল ইসলাম।

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের সাংবাদিকতার ইতিহাসে কাজী নুরুল ইসলাম ছিলেন দীর্ঘদিনের পরিচিত ও প্রবীণ সাংবাদিক। তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতাও করেছেন এবং স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও পীরগঞ্জের সামাজিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

সাংবাদিকতা ও কর্মজীবন
কাজী নুরুল ইসলাম জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো-এর পীরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সাংবাদিকতার পরিসর শুধু দৈনন্দিন স্থানীয় সংবাদে সীমাবদ্ধ ছিল না; পীরগঞ্জের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, সমাজ ও মানুষের জীবনযাত্রা নিয়েও তিনি লিখেছেন।
প্রথম আলোতে প্রকাশিত তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন ছিল ১৯৭১ সালের পীরগঞ্জের গণহত্যা নিয়ে। “পীরগঞ্জে গুলিতে মানুষ মেরে ফেলা হতো খালে” শিরোনামের প্রতিবেদনে তিনি স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস তুলে ধরেন।
তাঁর কর্মজীবনে দৈনিক দেশ, মুক্তকণ্ঠ, জনতা এবং সর্বশেষ প্রথম আলো-তে কাজ করার তথ্য পাওয়া যায়।
শিক্ষক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। পরে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অর্থাৎ তাঁর পেশাগত পরিচয় ছিল দ্বিমাত্রিক—একদিকে সাংবাদিকতা, অন্যদিকে শিক্ষকতা। প্রথম আলোর মৃত্যুসংবাদেও তাঁর শিক্ষকতা ও অবসর নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষকতার কারণে পীরগঞ্জের বহু মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সাংবাদিক হিসেবে সেই সামাজিক যোগাযোগ তাঁকে স্থানীয় মানুষের জীবন, সমস্যা ও ইতিহাস সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহে সহায়তা করেছে বলে তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়।
পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক
কাজী নুরুল ইসলাম ছিলেন পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং মৃত্যুর আগে সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালে তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব আয়োজিত স্মরণসভাতেও তাঁকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২০১৬ সালের একটি প্রতিবেদনে তাঁকে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে আবার তাঁকে প্রেসক্লাবের সহসভাপতি হিসেবে দেখা যায়। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠনটির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
২০২৩ সালে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য যে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়, তাঁদের মধ্যে প্রথম আলো প্রতিনিধি কাজী নুরুল ইসলামও ছিলেন।
সাংবাদিকতার একটি মানবিক দিক
তাঁর সাংবাদিকতার আরেকটি দিক ছিল স্থানীয় মানুষের সম্ভাবনা ও সাফল্য তুলে ধরা। যেমন পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী নাফিস ইকবালকে নিয়ে তাঁর করা সংবাদ পরবর্তীতে শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, কাজী নুরুল ইসলাম নাফিসকে নিয়ে সংবাদ পাঠানোর পর তাঁর শিক্ষাগত সাফল্য বিবেচনায় তাঁকে ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্টের অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তির জন্য নির্বাচন করা হয়।
এটি স্থানীয় সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে যে সাংবাদিকতা শুধু অনিয়ম বা সংকট তুলে ধরা নয়; মেধাবী, অসচ্ছল ও সম্ভাবনাময় মানুষের গল্প সামনে এনে তাদের জন্য সুযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অসুস্থ হয়ে দিনাজপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, স্বজন ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে যান।
তাঁর বয়স মৃত্যুকালে ৬৫ বছর ছিল বলে সমসাময়িক একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। সেখানে সাংবাদিক, শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর স্মৃতিচারণ করেন।

কাজী নুরুল ইসলামের উত্তরাধিকারকে তিনটি জায়গায় দেখা যায়—স্থানীয় সাংবাদিকতা, শিক্ষাক্ষেত্র এবং পীরগঞ্জের সামাজিক ইতিহাস সংরক্ষণ। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি পীরগঞ্জের মানুষের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা জাতীয় সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষক হিসেবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিশেষভাবে তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রতিবেদনগুলো স্থানীয় ইতিহাসের দলিল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। পীরগঞ্জের ১৯৭১ সালের হত্যাকাণ্ড ও প্রত্যক্ষদর্শীদের স্মৃতি জাতীয় সংবাদপত্রে তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় ইতিহাসকে বৃহত্তর পাঠকের সামনে নিয়ে গেছেন। তিনি ছিলেন সাংবাদিক, শিক্ষক, প্রেসক্লাব সংগঠক এবং স্থানীয় ইতিহাসের একজন সংগ্রাহক যাঁর কয়েক দশকের কাজ পীরগঞ্জের সাংবাদিকতার ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews