মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পীরগঞ্জের ফুসফুস সাগুনী শালবনের ফাইব্রোসিস!! নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে ৯১ একরের বন বোচাগঞ্জে ভিয়েতনামি কালো ধানে কপাল খুলেছে রকিবুলের। কুড়িগ্রাম সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি: জেলা পুলিশও পিছিয়ে নেই পীরগঞ্জে সাংবাদিকতার অনুসরণীয় নাম;কাজী নুরুল ইসলাম। বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুস্ঠান জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার দাওয়াতি সমাবেশে –  ব্যারিস্টার সালেহী জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, নারীকে মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মাগুরার শ্রীপুরে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন! পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী, এলাকায় চাঞ্চল্য কুড়িগ্রামে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় ইস্কাফ, ইয়াবা মোটরসাইকেলসহ আটক-১৯

পীরগঞ্জের ফুসফুস সাগুনী শালবনের ফাইব্রোসিস!! নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে ৯১ একরের বন

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সাগুনী শালবনকে বলা হয় এ অঞ্চলের ‘ফুসফুস’। প্রায় ৯১ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই শালবন শুধু গাছপালার সমষ্টি নয়; এটি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, পরিবেশের ভারসাম্য ও মানুষের নান্দনিকতার গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। কিন্তু নদীভাঙনের ভয়াবহতায় এখন সেই বন যেন ধীরে ধীরে ফুসফুসের ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত। নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে বনের মাটি, গাছের শিকড় ও ভূমির কাঠামো ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি সাগুনী শালবনের নদীসংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়, পাড়ের মাটি ধসে গিয়ে শিকড় বেরিয়ে এসেছে। কোথাও বিশাল গাছের শিকড় মাটির সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়ে ঝুলছে, আবার কোথাও পাড়ের একটি অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, শক্ত মাটির স্তর কেটে নদী এগিয়ে আসছে বনের ভেতরের দিকে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে একসময় গাছের গোড়া দুর্বল হয়ে বড় বড় শালগাছও নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, একটি বনভূমির ক্ষতি শুধু গাছ হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বনভূমির মাটি, শিকড়, পাখি, কীটপতঙ্গ, ছোট প্রাণী এবং স্থানীয় জলজ পরিবেশ সবকিছুই এর সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে নদীভাঙনের মাধ্যমে সাগুনী শালবনের ভূমি কমে গেলে একই সঙ্গে কমবে জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল এবং প্রাকৃতিক কার্বন সংরক্ষণের সক্ষমতা।
ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা জরুরি
পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় ভাঙনের ধরন, পানির প্রবাহ ও মাটির গঠন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জিওব্যাগ, ব্লক বা অন্যান্য নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে তীর সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তবে এই বক্তব্যটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম, পদবি ও সরেজমিন বক্তব্য দিয়ে প্রকাশের আগে যাচাই করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভাঙন এখন আর কেবল নদীর পাড়ের সমস্যা নয়; এটি ধীরে ধীরে বনের অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের একজন বলেন, “শালবনটি আমাদের এলাকার পরিচয়ের অংশ। নদী এভাবে ভাঙতে থাকলে কয়েক বছর পর বনের এই অংশটি হয়তো আর থাকবে না। এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, “গাছের শিকড়গুলো মাটির বাইরে বেরিয়ে গেছে। বর্ষা ও পানির চাপ বাড়লে আরও মাটি ধসে পড়তে পারে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, আগে যে জায়গাগুলো ভাঙছে সেগুলো রক্ষা করতে হবে।”

সাগুনী শালবনের এই ‘ফাইব্রোসিসের(রূপক অর্থে)’ চিকিৎসা একক কোনো পদক্ষেপে সম্ভব নয়। প্রথমত, নদীভাঙনের উৎস ও গতিপথ বৈজ্ঞানিকভাবে জরিপ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ ও উপযোগী ঘাসের মাধ্যমে মাটির বাঁধন শক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে বন বিভাগের অধীনে সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত একটি সাগুনী শালবন রক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। কারণ একটি গাছ পড়ে গেলে আরেকটি গাছ লাগানো সম্ভব; কিন্তু একটি প্রাকৃতিক বনভূমির পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনতে কয়েক দশক লেগে যেতে পারে।
সাগুনী শালবনের সামনে তাই প্রশ্ন একটাই ভাঙনের স্রোত কি ধীরে ধীরে পীরগঞ্জের এই ‘ফুসফুস’কে গ্রাস করবে, নাকি সময় থাকতেই তার চিকিৎসা শুরু হবে?

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews